শনিবার ১৬ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২রা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
Printed on: May 16, 2026
May 16, 2026
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাঁচছে হাজারো নবজাতকের জীবন

Published: May 16, 2026 at 01:14 PM
ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাঁচছে হাজারো নবজাতকের জীবন

পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে ঘিরে বিতর্ক বহুদিনের। তবে এই প্রযুক্তিই যে দেশটির হাজারো নবজাতকের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়টি খুব কমই আলোচিত হয়। বর্তমানে ইরানে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুকে উন্নত পারমাণবিকভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ৫৮ ধরনের বংশগত বিপাকীয় রোগের পরীক্ষা করা হয়। ইরানি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি ও কিট ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটি এমন এক চিকিৎসা সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশই করতে পেরেছে। অনেক আগেই ইরান তাদের নবজাতক ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। আজ দেশটির প্রতিটি নবজাতককে ট্যান্ডেম ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি (MS/MS) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হয়। এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি পারমাণবিক বিজ্ঞান। স্ক্রিনিং কিটগুলোও দেশীয়ভাবে তৈরি করেছেন ইরানি গবেষকেরা।

প্রায় দুই দশক ধরে পরিচালিত এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল মাত্র তিনটি রোগ শনাক্তের মাধ্যমে। পরে ধীরে ধীরে এতে অ্যামিনো অ্যাসিডজনিত সমস্যা, অর্গানিক অ্যাসিডেমিয়া, ফ্যাটি অ্যাসিড অক্সিডেশনজনিত রোগ এবং ইউরিয়া সাইকেলের ত্রুটিসহ ৫৮ ধরনের রোগ শনাক্তের সক্ষমতা যুক্ত হয়। এই চিকিৎসা বিপ্লবের পেছনে রয়েছে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে জীবনরক্ষাকারী রেডিওআইসোটোপ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক প্রযুক্তি যুদ্ধের অস্ত্র নয়; বরং এটি চিকিৎসা ও মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবছর হাজারো নবজাতকের মধ্যে এমন বিপাকীয় সমস্যা শনাক্ত করা হচ্ছে, যা আগে ধরা না পড়লে স্থায়ী মস্তিষ্ক ক্ষতি, প্রতিবন্ধকতা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারত।



নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় কর্মসূচি

ইরানের নবজাতক স্ক্রিনিং কর্মসূচি নতুন নয়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি দেশজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে। ২০০২ সাল থেকে জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম, ফেনাইলকিটোনিউরিয়া এবং গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ডিহাইড্রোজেনেজ ঘাটতির পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। পরবর্তীকালে পারমাণবিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতে অগ্রগতির ফলে কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো হয়। বর্তমানে নবজাতকের জন্মের তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিনের মধ্যে গোড়ালির সামান্য রক্ত নিয়ে ৫৮ ধরনের বিপাকীয় রোগ শনাক্ত করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের পরিধিও ব্যাপক। শুধু দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশেই বছরে প্রায় ৫৪ হাজার নবজাতকের পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ৫৬টি স্ক্রিনিং কেন্দ্র রয়েছে। টানা সাত বছর ধরে প্রদেশটিতে শতভাগ স্ক্রিনিং নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছে। দেশজুড়ে কার্যক্রমটি প্রায় প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে গেছে। ফলে কোনো নবজাতকই প্রাথমিক বিপাকীয় পরীক্ষা ছাড়া জীবনের শুরু করছে না। সব ধরনের পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো পরিবার এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।


স্ক্রিনিংয়ের কেন্দ্রে পারমাণবিক প্রযুক্তি

এই গণস্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্ভব হয়েছে ট্যান্ডেম ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি বা MS/MS প্রযুক্তির কারণে। শুকনো রক্তের নমুনায় অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যাসাইলকারনিটাইনের মাত্রা নির্ণয় করা হয় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। যদি কোনো শিশুর বংশগত বিপাকীয় সমস্যা থাকে, তবে শরীরে নির্দিষ্ট উপাদানের অস্বাভাবিক মাত্রা তৈরি হয়, যা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শনাক্ত করতে পারে এই যন্ত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সরাসরি পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। যন্ত্রগুলোর ক্যালিব্রেশন ও মাননিয়ন্ত্রণের জন্য যে উপকরণ প্রয়োজন, তা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থেকে উৎপাদিত রেডিওআইসোটোপ দিয়ে তৈরি হয়। এ ছাড়া সন্দেহজনক ফলাফলের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও পারমাণবিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। প্লাজমা অ্যামিনো অ্যাসিড বিশ্লেষণ, ইউরিন অর্গানিক অ্যাসিড টেস্ট ও এনজাইম কার্যকারিতা পরিমাপে রেডিওকেমিক্যাল পদ্ধতির ব্যবহার রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানি বিজ্ঞানীরা নিজস্ব প্রযুক্তিতে এসব ডায়াগনস্টিক কিট তৈরি করেছেন। এতে তারা এমন আত্মনির্ভরতা অর্জন করেছে, যা বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই সক্ষমতার প্রদর্শন করে। সে সময় পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে চারটি উন্নত পারমাণবিক চিকিৎসা কিট উপহার দেন। এর মধ্যে নবজাতকের ৫০টির বেশি বিপাকীয় রোগ শনাক্তে সক্ষম আন্তর্জাতিক মানের একটি স্ক্রিনিং কিটও ছিল।


৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ব্যবহার

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের একটি বিষয় হলো ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। সমালোচকদের দাবি, এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নেই। তবে ইরান বলছে, বাস্তবতা ভিন্ন। এই ইউরেনিয়াম গবেষণা রিঅ্যাক্টরে বিকিরণের মাধ্যমে মলিবডেনাম-৯৯ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। পরে এটি ক্ষয় হয়ে টেকনেশিয়াম-৯৯এম-এ রূপ নেয়। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি চিকিৎসা পরীক্ষায় এই আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। হৃদরোগ শনাক্তকরণ থেকে ক্যানসার নির্ণয় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিকিৎসা প্রয়োগের তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ২০২২ সালের মার্চে নিশ্চিত করে যে, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ মলিবডেনাম-৯৯ উৎপাদনের জন্য রূপান্তর করা হয়েছে। ইরানের দাবি, একবার এই উপাদান লক্ষ্যবস্তুতে রূপান্তরিত ও বিকিরিত হলে তা আর অন্য কোনো কাজে ব্যবহারযোগ্য থাকে না। এটি দেশেই থেকে যায় এবং সরাসরি রোগীদের চিকিৎসায় কাজে লাগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের তুলনায় উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহারে উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৫ গুণ বেশি হয়। কম সমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করলে একই পরিমাণ ওষুধ উৎপাদনে পাঁচ গুণ বেশি উপাদান, বর্জ্য ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতো।


কেন ইরানে এই স্ক্রিনিং এত গুরুত্বপূর্ণ

ইরানে বংশগত বিপাকীয় রোগের হার বিশ্ব গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এই স্ক্রিনিং কর্মসূচি শুধু উপকারী নয়, অত্যাবশ্যক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ফার্স প্রদেশে ৩০ মাসে পরীক্ষা করা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৯ নবজাতকের মধ্যে ১৩৯ জনের মধ্যে এসব রোগ নিশ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি এক হাজার নবজাতকের মধ্যে একজন আক্রান্ত। বিশ্ব গড়ের তুলনায় এ হার অনেক বেশি। বিশ্বে গড়ে প্রতি আড়াই হাজার নবজাতকের মধ্যে একজন আক্রান্ত হয়। সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে ফেনাইলঅ্যালানিন বিপাকজনিত রোগ, যা মোট আক্রান্তের ৩০ শতাংশ। এরপর রয়েছে শর্ট-চেইন অ্যাসাইল-কোএ ডিহাইড্রোজেনেজ ঘাটতি ও ৩-মিথাইলক্রোটোনাইল-কোএ কার্বক্সিলেজ ঘাটতি। গবেষকদের মতে, ইরানের জিনগত বৈশিষ্ট্য ও পারিবারিক কাঠামোর কারণে এসব রোগের ঝুঁকি বেশি। স্ক্রিনিং না থাকলে অধিকাংশ রোগের লক্ষণ জন্মের সময় বোঝা যায় না। যেমন- ফেনাইলকিটোনিউরিয়ায় শিশুর শরীরে ফেনাইলঅ্যালানিন ভাঙার এনজাইম কাজ না করায় ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের ক্ষতি শুরু হয়। শিশু জন্মের সময় স্বাভাবিক দেখালেও দ্রুত চিকিৎসা না পেলে পরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধকতা, খিঁচুনি, আচরণগত সমস্যা ও স্থায়ী স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেয়। লক্ষণ প্রকাশের পর ক্ষতি আর পূরণ করা সম্ভব হয় না। তবে জন্মের পরপরই রোগ শনাক্ত হলে খাদ্যনিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুকে স্বাভাবিক জীবন দেওয়া সম্ভব হয়।


দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সহায়তা

রোগ শনাক্তের পর ইরান আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। প্রতিটি শিশুকে বিশেষায়িত বিপাকীয় ক্লিনিকে পাঠানো হয়, যেখানে চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও নার্সদের সমন্বয়ে গঠিত দল কাজ করে। রোগ অনুযায়ী বিশেষ খাদ্য, ওষুধ ও পুষ্টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। রফেনাইলকিটোনিউরিয়ার ক্ষেত্রে খাদ্যে ফেনাইলঅ্যালানিন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বিশেষ খাদ্যপণ্য ব্যবহার ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হয়। ইরানে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে এসব বিশেষ খাদ্য সরবরাহ করা হয় এবং পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়তা দেওয়া হয়। ম্যাপল সিরাপ ইউরিন ডিজিজ, প্রোপিওনিক অ্যাসিডেমিয়া ও মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিডেমিয়ার মতো রোগের ক্ষেত্রেও জটিল চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এতে জরুরি বিপাকীয় ব্যবস্থাপনা, প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন থেরাপিও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই স্ক্রিনিং কর্মসূচির মাধ্যমে শত শত শিশুকে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা ও অকালমৃত্যু থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছে ইরান।


আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও আঞ্চলিক নেতৃত্ব

ইরানের এই সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কাড়ছে। ২০২৫ সালে শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেস-এর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী জানান, ফার্স প্রদেশ টানা সপ্তম বছরের মতো শতভাগ স্ক্রিনিং কভারেজ ধরে রেখেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। বর্তমানে প্রদেশটিকে বিপাকীয় রোগ প্রতিরোধ গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।ইরান এখন অন্যান্য দেশকেও এই প্রযুক্তি সহায়তা দিতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালে কিউবাকে স্ক্রিনিং কিট উপহার দেওয়াকে শুধু কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়, জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি হস্তান্তর হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ইরান প্রায় ৬৯ ধরনের ডায়াগনস্টিক ও চিকিৎসাবিষয়ক রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন করছে, যা বছরে ১০ লাখের বেশি রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ২০২৫ সালের শেষদিকে পারমাণবিক চিকিৎসা খাতে ইরানকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। টেকনেশিয়াম-৯৯এম, ফ্লোরিন-১৮ এবং লুটেশিয়াম-১৭৭ উৎপাদনে দেশটি এখন স্বনির্ভর।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ইরান তাদের নবজাতক স্ক্রিনিং কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে সেরিব্রাল ক্রিয়েটিন ঘাটতির মতো অতিরিক্ত রোগ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার হার ইরানে তুলনামূলক বেশি। এ ছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়েও এই মডেল বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অনেক দেশের জিনগত বৈশিষ্ট্য ইরানের সঙ্গে মিল রয়েছে। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোও এই মডেল অনুসরণ করলে প্রতিবছর হাজারো শিশুকে প্রতিবন্ধকতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। ইরানের দাবি, যে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্ক রয়েছে, সেটিই তেহরান গবেষণা রিঅ্যাক্টরে ব্যবহৃত হয়ে মলিবডেনাম-৯৯ উৎপাদন করছে। পরে তা টেকনেশিয়াম-৯৯এম-এ রূপান্তরিত হয়ে নবজাতক স্ক্রিনিংয়ের MS/MS যন্ত্রের ক্যালিব্রেশনে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইরানের হাসপাতাল ও গবেষণাগারে প্রতিদিন এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, যে পারমাণবিক প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে, সেটিই নীরবে অসংখ্য ইরানি শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করছে।

সূত্র: প্রেস টিভি