চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসনের গঠিত বিশেষ টিম। বৃহস্পতিবার পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, বিশেষ করে বস্তিগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করার পাশাপাশি মশক নিধনে ফগিং করা হয়েছে।
এ সময় বাসিন্দাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রেলবাগান বস্তিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও টিম লিডার তৌফিকুল ইসলাম, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও টিম লিডার আহসান হাবীবসহ টিমের সদস্যরা।
এ সময় তারা বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মশার প্রজননস্থল সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি মশক নিধনে ফগিংয়ের মাধ্যমে ধোঁয়া দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ডেঙ্গু মশক নিধনবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক একটি করে টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিটি টিমে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে পৌরসভার কর্মচারী, যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্য, স্কাউটস সদস্য ও সাংবাদিকদের রাখা হয়েছে।
গঠিত এসব টিমের দায়িত্ব হলো, নিজ নিজ এলাকার ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মশক নিধনে ফগিং ও লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা এবং বাসিন্দাদের সচেতন করা। একই সঙ্গে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সচেতন করার পরও কেউ নির্দেশনা না মানলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রেলবাগান বস্তিতে ড্রেনের পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে মশার প্রজনন বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন পৌর প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ।