চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করবে মশক নিধন টিম। একই সঙ্গে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনসচেতনতার পরও কেউ নির্দেশনা না মানলে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু মশক নিধন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।
সভায় পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত এসব টিমে পৌরসভার কর্মচারী, যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্য, স্কাউটস সদস্য ও সাংবাদিকদের রাখা হয়েছে।
টিমের সদস্যরা ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করবেন। পাশাপাশি ফগিং ও লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে মশা নিধন এবং বংশবিস্তার রোধে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ সময় বাসিন্দাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক পরামর্শও দেওয়া হবে।
সভায় আবাসিক ও নির্মাণাধীন ভবন, ঝোপঝাড়, ড্রেন, পরিত্যক্ত স্থান এবং বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এলাকাভিত্তিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে কমিটি গঠন এবং মসজিদে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক খুতবার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি প্রতিনিধি দল কয়েকদিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছে। তাদের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু মশার প্রজননস্থল শুধু বাইরের পরিবেশে নয়, ঘরের ভেতরেও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন ডেঙ্গুর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ডেঙ্গু এখন শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়; গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার ঘটেছে।
সভায় জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাসসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, পৌরসভা ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।