চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের সাদ্দামের চর এলাকায় পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত ডিঙ্গি নৌকাডুবির ঘটনায় ভারতে ভেসে যাওয়া ১০ জনকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন সাঁতরে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে উঠে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের সাদ্দামের চর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। প্রবল স্রোতের কারণে ১২ জন যাত্রী নিয়ে ছোট ইঞ্জিনচালিত ডিঙ্গি নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় নারী, শিশু ও পুরুষ ছিলেন।
স্থানীয়, পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নৌকাডুবির পর যাত্রীরা স্রোতে ভেসে ভারতের সীমান্ত এলাকায় চলে যান। পরে বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যার দিকে ১০ জনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিন শিশু, তিন নারী ও চারজন পুরুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ দিনের এক নবজাতকও ছিল। পরে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ফরিদপুর বিওপির আওতাধীন এলাকায় নৌকাডুবির পর বিএসএফ ১০ জনকে উদ্ধার করে খান্দুয়া ক্যাম্পের হেফাজতে নেয়। বিষয়টি সন্ধ্যায় বিএসএফ বিজিবিকে জানালে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তৎপরতা শুরু করা হয়।
তিনি বলেন, রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর বিওপি কমান্ডার ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডারের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর উদ্ধার হওয়া ১০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাঁদের স্বজন মো. ইসমাইলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন নৌকাডুবির ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জীবন চন্দ্র জানান, বাংলাদেশ ও ভারত থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনই সুস্থ রয়েছেন। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। স্বজনরা নদীতে তাঁর সন্ধান করছেন।
নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. রবু জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটি ছিল একটি পারিবারিক ডিঙ্গি নৌকা। এতে একটি পরিবারের ছয়জন, আরেকটি পরিবারের চারজন এবং দুটি পরিবারের একজন করে ছিলেন। তাঁরা সবাই পরস্পরের আত্মীয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকাডুবির শিকার ১২ জনই নারায়নপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ভারত থেকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনা ১০ জন হলেন—মো. মোস্তাফার স্ত্রী সখিনা বেগম (৪৫), ছেলে মো. রাসেল (২৬), মতিউর রহমানের স্ত্রী নিলুফা বেগম (৩৫), ছেলে মো. সাব্বির ওরফে সানাউল্লাহ (৯), মো. ইসলামের ছেলে আল আমিন (৯), মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইব্রাহীম (৬০), মৃত আব্দুর রউফের ছেলে মো. সওদাগর (৪০), মো. ইব্রাহীম (৫০), মো. সোহেলের স্ত্রী তানিয়া খাতুন (২২) এবং তাঁর ২০ দিনের মেয়ে তানিসা খাতুন।
এ ছাড়া শামসুল হকের ছেলে মো. ওয়াসিম (২৩) সাঁতরে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে উঠে রক্ষা পান। অপরদিকে আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. মোস্তফা (৬০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।