চাঁপাইনবাবগঞ্জে
উজানের ভারতীয় ঢলের পানি ও বৃষ্টিপাতের কারণে
অব্যহত রয়েছে পদ্মা, মহানন্দা, পূর্ণভবা, পাগলা এই চার নদী
সহ খাল-বিলের মৌসুমি পানি বৃদ্ধি। প্রায় ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়েও অনেকে পড়েছেন ভোগান্তিতে। এদিকে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার
প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবার
পানিবন্দি হবার তথ্য জানিয়েছে প্রশাসন। আজ তাঁদের জন্য
ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এদিন দুই উপজেলার ২ হাজার ২৯৪
পরিবারকে ত্রাণ হিসেবে প্রথম দফায় চাল দেয়া হয়েছে।
জেলা
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, আজ সন্ধ্যায় পদ্মা
বিপৎসীমার ২৬ সে.মি
নীচে ২১.৭৯ মিটারে
প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে মহানন্দা ১৯.৪৬ ও
পূণর্ভবা ১৯.৫২ মিটারে
বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবাীব
বলেন, পদ্মা আরও ২/১ দিন
বৃদ্ধির পর স্থির হয়ে
কমতে শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
তিনি বলেন, জেলায় এখনও পূর্ণাঙ্গ বন্যা হবার কোন পূর্বাভাষ নেই। পদ্মা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। পাউবো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
সদরের
নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন,প্রায় ১ হাজার ৪০০
পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ১ হাজার ৩৭৮
পরিবারকে ১০ কেজি করে
চাল দেয়া হয়েছে।দূর্গত অনেক এলাকায় নৌকা থেকেই চাল দেয়া হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একরামুল হক নাহিদ বলেন,এই ইউনিয়নে ৯টি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। সদরের আলাতুলি ইউপি চেয়ারম্যান ১০ কেজি করে
৪৫০ পরিবারকে চাল দেয়ার তথ্য জানিয়েছেন।
শিবগঞ্জের
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাযহারুল ইসলাম বলেন,উপজেলার পাঁকা,দূর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নে
১হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি। মনাকষা ইউনিয়নেও পািন ঢুকেছে।
পাকা
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, নীচু এলাকার প্রায় ৫ শত বাড়িতে
পানি প্রবেশ করেছে।
এছাড়া পানিবন্দি হয়েছে ১ হাজার ২০০
পরিবার। ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। ৪৬৬ পরিবারকে নৌকা থেকে ১৫ কেজি করে
চাল দেয়া হয়েছে।দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, ১০টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ।
জেলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আতিকুর
রহমান জেলাব্যাপী এখন পর্যন্ত সোয়া ৪শত বিঘা জমির বিভিন্ন ফসল সম্পূর্ণ বিন্ষ্ট হবার তথ্য জানিয়েছেণ। তিনি বলেন, নদীর পানিবৃদ্ধিতে ফসল ক্রমাগত আক্রান্ত হবার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।