তামিল সিনেমার দুই জনপ্রিয় তারকা বিজয় ও অজিত কুমারের কথিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসছে প্রায় তিন দশক ধরে। দুই তারকার ভক্তদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বাস্তব জীবনেও বহুবার বিরোধ দেখা গেছে। তবে, এবার সেই দীর্ঘদিনের ‘বিরোধে’ যেন অন্যরকম মোড় এসেছে। অজিত যে ল্য ম্যান্স রেসে অংশ নিচ্ছেন, সেটার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই চমকে গেছেন দুই তারকার ভক্তরা।
তামিল সিনেমায় প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করছেন বিজয় ও অজিত। দুজনই নিজেদের জায়গায় বড় তারকা। সময়ের সঙ্গে বিজয় রাজনীতিতে এসে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আর অজিত ফিরে গেছেন গাড়ি রেসিংয়ে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কথিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এবার একই আয়োজনকে ঘিরে সামনে এলেন দুজন।
ল্য ম্যান্স কাপের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ পতাকা উড়াবেন বিজয়। আয়োজকেরা লিখেছেন, “এই সপ্তাহান্তে সিলভারস্টোনে একজন বিশেষ অতিথি সবুজ পতাকা উড়াবেন! সি. জোসেফ বিজয়।”
আরো জানানো হয়, ভারতের অভিনেতা ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় যুক্তরাজ্যে ভারতীয় রেসারদের সমর্থন জানাতে উপস্থিত থাকবেন। ৪৪টি গাড়ির গ্রিডের সামনে তিনি সিলভারস্টোন রাউন্ডের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রেস শুরুর অপেক্ষায় থাকার কথাও জানিয়েছে আয়োজকেরা।
এদিকে, অজিত কুমার রেসিংও নিশ্চিত করেছে, ল্য ম্যান্স রেসে অংশ নিচ্ছেন অজিত। ট্র্যাকের একটি ভিডিও প্রকাশ করে তারা লিখেছে, “গাড়িগুলো গর্জে ওঠার আগে দলটি সিলভারস্টোনের প্রতিটি ইঞ্চি হেঁটে দেখে। কার্ব, রাস্তার ঢাল ও ব্রেক করার জায়গাগুলো বুঝে নেয়। আসলে এখান থেকেই রেস শুরু হয়।”
বিজয় ও অজিতের কথিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে তাদের ভক্তদের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাস্তব জীবনে পাল্টাপাল্টি বিরোধ চলে আসছে। তাই দুই তারকার এই একই আয়োজনে যুক্ত হওয়ার খবর ভক্তদের কাছে বেশ কৌতূহল জাগিয়েছে।
এখানে ‘অনিল’ অর্থ কাঠবিড়ালি—বিজয়ের ভক্তদের ব্যঙ্গ করে প্রতিপক্ষরা এই শব্দ ব্যবহার করেন। একইভাবে ‘আমাই’ অর্থ কচ্ছপ, যা অজিতের ভক্তদের বোঝাতে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ব্যবহার করে।
আরেকজনের ভাষ্য, “অজিতের রেসিং ক্যারিয়ার ও বিজয়ের রাজনৈতিক অধ্যায়ের আগেও দুই তারকার ভক্তদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাস্তবে তুমুল লড়াই ছিল। তামিলনাড়ুর প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই ছিল ‘অনিল’ ও ‘আমাই’ গোষ্ঠীর উপস্থিতি। এতো আগে এই পুনর্মিলন আশা না করলেও তা এখন ঘটছে। তাই বিদ্বেষ সরিয়ে রেখে এই মুহূর্ত উপভোগ করা উচিত।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অজিতের স্ত্রী শালিনীও দুই তারকার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্ক ভালো; দুজনই একে অপরের সাফল্যে খুশি এবং একে অপরকে সমর্থন করেন। অজিতও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কথিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কথা বলে বিজয়ের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।