চাঁপাইনবাবগঞ্জে উজান থেকে আসা ভারতীয় ঢলের পানি ও বৃষ্টিপাতের কারণে অব্যহত রয়েছে পদ্মা, মহানন্দা, পূর্ণভবা, পাগলা এই চার নদী এবং নদী সংলগ্ন খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি। নিমজ্জিত হচ্ছে কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক। কিছু এলাকায় বসতবাড়ি এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করেছে। এদিকে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হবার তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। তাঁদের জন্য ত্রাণ দেবার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে।
এদিকে গবাদিপশু নিয়েও অনেকে পড়েছেন ভোগান্তিতে। বিশেষ করে ফারাক্কা হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা পদ্মা জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত করছে। জেলার নদীতীরবর্তী সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের নীচু অঞ্চলে প্রবেশ করেছে পদ্মার পানি। এদিকে জেলায় অব্যহত বৃষ্টিপাত মানুষের দূর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, আজ সন্ধ্য ৬টায় পদ্মা বিপৎসীমার ৩১ সে.মি নীচে ২১.৭৪ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে মহানন্দা ১৯.৩৮ ও পূণর্ভবায় ১৯.৩৬ মিটারে বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, পদ্মায় আরও ২/১ দিন বৃদ্ধির পর স্থির হয়ে কমতে শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তিনি জানান, জেলায় এখনো পূর্ণাঙ্গ বন্যা হবার কোন আশংকা নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পদ্মা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। পাউবো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
সদরের নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন। আজ নারায়নপুর পরিদর্শন করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একরামুল হক নাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,এই ইউনিয়নে ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। শিবগঞ্জের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিজানুর রহমান আজ সরেজমিনে পাঁকা ইউনিয়ন পরিদর্শনের পর বলেন,উপজেলার পাঁকা,দূর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নে ১হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন। মনাকষা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ভেসে গেছে।
পাকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, নীচু এলাকার প্রায় সাড়ে ৩শ বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করেছে। দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের মনোহরপুর,রামসনাথপুর, নামোজগন্নাথপুর,চরহাসানপুর গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান জানান, জেলাব্যাপী এখন পর্যন্ত সোয়া ৪ শত বিঘা জমির বিভিন্ন ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হবার তথ্য পাওয়া গেছে।