বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন টুর্নামেন্ট ‘গেম ডেভেলপমেন্ট (জিডি) ট্রফি’। তিন বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেটারদের নিজেদের চেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ করে দিয়ে প্রতিভা খুঁজে বের করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুরে জিডি ট্রফি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘মূল লক্ষ্য হলো ট্যালেন্ট খুঁজে বের করা এবং আইডেন্টিফাই করা।’
৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্টে তিন দল একে অন্যের বিপক্ষে দুবার করে খেলবে। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল মুখোমুখি হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে।
আগামী ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টুর্নামেন্ট। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৯টায় ম্যাচটি শুরু হবে।
এরপর ৩০ আগস্ট মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ১ সেপ্টেম্বর খেলবে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল। প্রথম পর্বের দ্বিতীয় চক্রে ৩ সেপ্টেম্বর অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৭, ৫ সেপ্টেম্বর অনূর্ধ্ব-২৩ ও অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ৭ সেপ্টেম্বর অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল মুখোমুখি হবে।
লিগ পর্ব শেষে ৯ সেপ্টেম্বর হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। পয়েন্ট তালিকার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল খেলবে ওই ম্যাচে। প্রতিটি জয়ের জন্য থাকছে ২ পয়েন্ট। ম্যাচের ফল না হলে পাওয়া যাবে ১ পয়েন্ট, আর হারে কোনো পয়েন্ট নেই।
অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা
এমন টুর্নামেন্ট আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তামিম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ক্রিকেটারদের। তাঁর মতে, এই বয়সের ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ তুলনামূলক কম। তাই নিজেদের চেয়ে বয়সে ও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ তাদের প্রতিভা যাচাইয়ের ভালো মাধ্যম হতে পারে।
তামিম বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৭ যখন অনূর্ধ্ব-২৩-এর সঙ্গে খেলবে, আমি কমপ্লিটলি এগ্রি করি যে এটা চ্যালেঞ্জিং হবে। হয়তো খুব লো স্কোরে আউট হয়ে যেতে পারে অথবা খুব ভালোও খেলতে পারে। বাট এই বয়সেই যদি ওদেরকে এই চ্যালেঞ্জটা না দেওয়া যায়, তবে ক্রিকেট বোর্ড বা সিলেক্টরদের বোঝার কোনো উপায় নেই যে এখান থেকে কোনো স্পেশাল ক্রিকেটার আছে কি না।’
বিশ্ব ক্রিকেটে কম বয়সেই জাতীয় দল কিংবা বড় লিগে খেলার উদাহরণ টেনে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমরা কি আমাদের এজ লেভেলের ১৫-১৭ বছরের ছেলেদেরকে এরকম কোনো সুযোগ করে দিচ্ছি যে ওদের মধ্যে যে একটা এক্সট্রা প্রতিভা আছে, এটা দেখার জন্য? আমরা ওই ক্যাম্পের মধ্যেই থাকি, নিজেদের মধ্যেই খেলি এবং ওভাবেই ওরা গ্রো করে।’
অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোনো ক্রিকেটার যদি অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে ভালো করেন, সেটি তার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচকদেরও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে বলে মনে করেন তামিম।
তিনি বলেন, ‘এখান থেকে যদি একটা অনূর্ধ্ব-১৭-এর ছেলে তিনটা উইকেট পায় বা একটা ৫০ রান করে, তবে তার কনফিডেন্স অনেক বেড়ে যাবে। আমাদের আইডেন্টিফাই করার জন্য এটা খুবই ভালো একটা প্ল্যাটফর্ম হবে যে সে নেক্সট লেভেলের জন্য রেডি কি না।’
প্রতি বছর আয়োজনের পরিকল্পনা
জিডি ট্রফি শুধু এক মৌসুমের জন্য নয়, প্রতি বছর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। ভবিষ্যতে নারী ক্রিকেটেও একই ধরনের আয়োজন করার কথা ভাবছে বোর্ড।
তামিম বলেন, ‘এটা জাস্ট এই সিজনের জন্যই না। আমি গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যানকে রিকোয়েস্ট করেছি যেন এটা প্রতি বছরের ক্যালেন্ডারে থাকে। সিমিলারলি আমরা চেষ্টা করব এটা ওমেনস ক্রিকেটেও করার জন্য।’
টুর্নামেন্টে প্রাইজমানির চেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। তামিম বলেন, ‘প্রাইজ মানি বা ম্যান অব দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ডগুলো তাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করার জন্য যতটুকু দরকার ওভাবেই করা হবে। মানি ইজ নট ভেরি ইম্পর্টেন্ট, কম্পিটিশনটা ক্রিয়েট করাটাই আমাদের কাছে বেশি ইম্পর্টেন্ট।’