নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কেব্বি রাজ্যে সন্দেহভাজন সশস্ত্র ডাকাতদের সঙ্গে পুলিশের ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন পুলিশ সদস্য এবং ১৭ জন সন্দেহভাজন ডাকাত রয়েছেন। এ ঘটনায় দুই বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। সোমবার রাতে কেব্বি রাজ্যের সাকাবা স্থানীয় সরকার এলাকার রাফিন মাকুকু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শোক জানিয়েছে দেশটির পুলিশ বাহিনী। পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিএসপি আনি ইনিয়েদু জানান, কেব্বি ও পার্শ্ববর্তী জামফারা রাজ্যের মধ্যে চলাচল করছিল একদল সন্দেহভাজন সশস্ত্র ডাকাত। তাদের গতিরোধ করে আটকের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টা ২৫ মিনিটে সংঘর্ষ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ওই বন্দুকযুদ্ধে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই ঘটনায় দুই বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের পাল্টা অভিযানে ১৭ সন্দেহভাজন ডাকাত নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাদের ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেলও ধ্বংস করা হয়েছে।
নাইজেরিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক ওলাতুনজি দিসু নিহত সদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এসব পুলিশ সদস্য প্রাণ দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ পুলিশ বাহিনী ও দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সংঘর্ষের পর ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজন অপরাধীদের ধরতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কেব্বি, জামফারা, সোকোতো ও কাটসিনা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। এসব গোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকায় হামলা, অপহরণ ও সশস্ত্র ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে তাদের তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী। সর্বশেষ সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।