বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৭ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় জেলা প্রশাসনের রাত ৮টার মধ্যে শপিংমল-মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত মল্লিকার দাবি, ‘টম ক্রুজও আমার প্রতি আকৃষ্ট’ আগামীকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল গোমস্তাপুরে সার সংকটের প্রতিবাদে কৃষকদের বিক্ষোভ মাদক উদ্ধার ও চোরাচালান প্রতিরোধে রাজশাহী রেঞ্জে সেরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত লোডশেডিং এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ডিসি অফিস ঘেরাও, স্মারকলিপি প্রদান সহজে ফুলের দেখা মেলে না কাঁঠালিচাঁপার এক সিনেমার সাফল্যেই তিন গুণ বাড়ল শ্রদ্ধার পারিশ্রমিক!
Printed on: August 12, 2026
August 12, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ায় আবারও ফেরিতে আগুন, ১৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার

Published: August 12, 2026 at 10:06 AM
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ায় আবারও ফেরিতে আগুন, ১৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত পর্যটন দ্বীপ বালির কাছে গভীর সাগরে এক যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ‌‘পুত্রি ইয়াসমিন’ নামের ফেরিটি মাঝদরিয়ায় দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলে সেখানে এক মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়।  বুধবার ভোররাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় ১৭২ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এক ১৯ বছর বয়সী তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। উত্তাল সাগরে প্রায় চার মিটার উঁচু ঢেউয়ের মধ্যেও ইন্দোনেশীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা (বাসারনাস), নৌবাহিনী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ তৎপরতায় বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রাদেশিক রাজধানী মাতারামের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বুধবার ভোর আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়। জলযানটি বালির ‘পাদাং বাই’ বন্দর থেকে পশ্চিম নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের পাশ্ববর্তী লম্বক দ্বীপের ‘লেম্বার’ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর জরুরি বার্তা পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী জাহাজ ও উদ্ধারকর্মীদের পাঠায় উদ্ধারকারী সংস্থাটি। 


মাতারাম অনুসন্ধান ও উদ্ধার অফিসের প্রধান মুহাম্মদ হারিয়াদি জানান, তাদের মূল ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল ফেরিতে থাকা সব যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা। প্রাথমিকভাবে জাহাজের ম্যানিফেস্ট বা তালিকা অনুযায়ী ফেরিটিতে ১৭ জন ক্রু সদস্যসহ মোট ১৩১ জন যাত্রী থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে উদ্ধারকাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কর্মকর্তারা জানান, জাহাজে নিবন্ধিত সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন। যার প্রমাণ মেলে যখন তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে দুজন অস্ট্রেলীয় পর্যটকও রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজের মূল তালিকার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটিতে যাত্রী ছাড়াও ৪৪টি গাড়ি এবং ৫৩টি মোটরসাইকেল বহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।


লেম্বার বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান শামসুরিযাল জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহত অন্তত দুই যাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। বিশাল এই উদ্ধার তৎপরতায় ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীর জাহাজ, টহল বোট, উদ্ধারকারী জলযান এবং আকাশপথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য হেলিকপ্টার নিয়োজিত করা হয়েছে। তবে হারিয়াদি সতর্ক করে জানান, সাগরে চার মিটার (১৩ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ থাকায় প্রবল উত্তাল পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারীদের প্রচণ্ড প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।


১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেরি বা নৌপথ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে নৌযান সুরক্ষা আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে সেখানে নিয়মিত বিরতিতে এমন মারাত্মক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।  উল্লেখ্য, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায়, যখন দেশটির প্রধান দ্বীপ জাভার উপকূলে ‘মুতিয়ারা সেন্টোসা ২’ নামক আরেকটি ফেরিতে আগুনে পুড়ে অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছিলেন।