চোখ ধাঁধানো রূপ ও অভিনয়দক্ষতায় দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ে কথা’, ‘শাস্তি’ ও ‘সুভা’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন তিনি।
তবে ক্যারিয়ারের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে এখন বড়পর্দায় নিয়মিত দেখা যায় না। দীর্ঘ সময় ধরে নতুন সিনেমায় অনুপস্থিত পূর্ণিমা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার ভক্তদের মনে প্রশ্ন—কেন রুপালি পর্দায় অনিয়মিত এই অভিনেত্রী?
ভক্তদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। বড়পর্দায় ফিরতে চান পূর্ণিমা। তবে উপযুক্ত গল্প ও চরিত্র না পাওয়ায় নতুন সিনেমায় কাজ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
পূর্ণিমার ভাষায়, ‘আমি তো সিনেমায় অভিনয় করতে চাই। আমি আজ যা কিছু, সবই এই অঙ্গন থেকে পেয়েছি। কথা হচ্ছে, নতুন সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছি। কিন্তু কনভিন্স হওয়ার মতো তেমন কোনো গল্প পাচ্ছি না।’
যে গল্পে ফিরতে চান পূর্ণিমা
নতুন সিনেমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গল্প ও নির্মাতার ভাবনাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘সিনেমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমার প্রথম যে বিষয়টি কাজ করে, তা হচ্ছে—পরিচালকের ভাবনাচিন্তা ও সুন্দর একটি গল্প। গল্পে আমার চরিত্র কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে তাকে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি হওয়া উচিত বলেও মনে করেন পূর্ণিমা।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছি, আমার এখনকার অবস্থান চিন্তা করে গল্প তৈরি হতে হবে।’
সময়োপযোগী চরিত্র চান
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপমহাদেশীয় সিনেমার উদাহরণ টানেন পূর্ণিমা। তার মতে, আগের প্রজন্মের অনেক অভিনেত্রী এখনো দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্মাতারা নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন।
পূর্ণিমা বলেন, ‘আমাদের আগে উপমহাদেশীয় সিনেমায় যেসব নায়িকা কাজ করেছেন, তাদের অনেকে এখনো বেশ দাপটের সঙ্গে অভিনয় করছেন। প্রযোজক-পরিচালকেরা তাদের সময়োপযোগী করে উপস্থাপন করছেন। আমাকে নিয়েও পরিচালকদের সময়োপযোগীভাবে ভাবতে হবে।’
নায়িকা থেকে খলনায়িকা হতে চান
রোমান্টিক ও গ্ল্যামারাস নায়িকা হিসেবেই দর্শকের কাছে বেশি পরিচিত পূর্ণিমা। তবে এবার সেই পরিচিত ইমেজের বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিশেষ করে নেগেটিভ বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে।
পূর্ণিমা বলেন, ‘আমাকে সবাই রোমান্টিক লুক ও সুন্দরী নায়িকা, পরিপাটি ইমেজে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এখন আমাকে এর বিপরীতে দেখলে খুব ভালো হয়। আমার খুব ইচ্ছে নেগেটিভ চরিত্র বা ভিলেন টাইপের চরিত্রে অভিনয় করার।’
এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যে চরিত্র দেখে দর্শকের মনে তার প্রতি ঘৃণা তৈরি হবে। তার ভাষায়, ‘সিনেমাটি দেখে যেন ওই চরিত্রের প্রতি মানুষের ঘৃণা তৈরি হয়। আজ পর্যন্ত আমাকে নিয়ে এ ধরনের চরিত্র কেউ চিন্তাও করেনি।’
তাই বড়পর্দায় পূর্ণিমার ফেরাটা এখন মূলত নির্ভর করছে তার পছন্দের গল্প ও চরিত্রের ওপর। দর্শকের পরিচিত সেই রোমান্টিক পূর্ণিমা নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো চরিত্রে—প্রত্যাবর্তনে কোন রূপে দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।