মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৯ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 04, 2026
August 04, 2026
বিনোদন
বিনোদন

অবশেষে তৃষা-কাণ্ডে জামিনে মুক্ত উদয়নিধি, তবে ..............

Published: August 04, 2026 at 11:52 AM
অবশেষে তৃষা-কাণ্ডে জামিনে মুক্ত উদয়নিধি, তবে ..............

দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষাকে ইঙ্গিত করে কথিত ‌‌‌‘দ্ব্যর্থবোধক’ ও বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতারের প্রায় চার ঘণ্টা পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (ডিএমকে)-এর বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন। মাদ্রাজ হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশের পর জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তামিলনাড়ু পুলিশ তাকে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্ত করে। 

তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তদন্তের প্রয়োজনে যখনই ডাকা হবে, ডিএমকে নেতাকে উপস্থিত হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।

আদালতে শুনানি চলাকালে থানজাবুর পুলিশের পক্ষে উপস্থিত হয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল বিজয় নারায়ণ জানান, উদয়নিধি স্ট্যালিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানজাবুরে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর কোনো উদ্দেশ্য পুলিশের ছিল না। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তাকে কেবল প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং থানা জামিনে (স্টেশন বেল) মুক্তি দেওয়া।


এর আগে, সোমবার থানজাবুরে কাবেরী নদী-সংক্রান্ত এক প্রতিবাদ সভায় প্রদত্ত বক্তব্যের জের ধরে উদয়নিধির নীলঙ্করাইয়ের বাসভবনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পৌঁছানোর পরপরই তার পক্ষে একটি আগাম জামিনের আবেদন করা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানজাবুরে নিয়ে যাওয়া হয়।


পুলিশি পাহারায় নিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরে উদয়নিধি স্ট্যালিন বলেন, আমি কি মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কারও নাম উল্লেখ করেছিলাম? তাহলে আপনারা কেন ভাবছেন যে এমনটি ঘটছে? বিষয়টি আদালতকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিন।


পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উদয়নিধির বিরুদ্ধে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ, নারীর শালীনতাহানি, সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা বা গোলযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্ররোচনা দেওয়া এবং অপরাধমূলক হুমকি প্রদানসহ আইনানুযায়ী ৯টি পৃথক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘তামিলনাড়ু নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন’-এর আওতাভুক্ত বেশ কয়েকটি কঠোর ধারাও এতে যুক্ত করা হয়েছে।


এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল তামিলনাগা ভেট্রি কড়গম (টিভিকে) উদয়নিধির আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন এবং জাতীয় নারী কমিশনের (এনসিডব্লিউ) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। থানজাবুর ইস্ট পুলিশ স্টেশনে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন টিভিকে-র থানজাবুর সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট উইমেনস উইংয়ের অর্গানাইজার এস ভৈরবী।


অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ আগস্ট কাবেরী ইস্যুতে বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের বক্তব্য চলাকালে উপস্থিত জনতা যখন ‘তৃষা, তৃষা’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল, তখন তিনি একটি অশ্লীল ও দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয় যে, উদয়নিধি ও ডিএমকে-র আইটি সেলের দায়িত্বশীলরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নারীদের হেয়প্রতিপন্ন করেছেন, যা উক্ত অভিনেত্রীসহ সমগ্র নারী সমাজের জন্য মানসিক কষ্টের কারণ হয়েছে। একই সঙ্গে জনমনে অসন্তোষ ও অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের উক্ত ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।


এদিকে, উদয়নিধি স্ট্যালিনের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তার গ্রেফতারের প্রতিবাদে ডিএমকে নেতাকর্মীরা তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।