চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি নেই। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। রোগীর চাপে জেলা হাসপাতালে তৈরি হয়েছে ভিড়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত মঙ্গলবার থেকে শিবগঞ্জ, নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন করে চিকিৎসককে আগামী এক মাসের জন্য জেলা হাসপাতালে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির সদস্যরা সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতন করছেন। প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটিসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও চালাচ্ছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। তবে এসব উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে না।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের পরিসংখ্যানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা চারজন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেই এখন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০ জন বাসিন্দার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বাড়িতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ১০২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ জন। একই সময়ে জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে শনাক্ত হওয়া সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫০ জন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১২ জন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে জেলা হাসপাতালে ২৪ জন পুরুষ ও ২৪ জন নারীসহ ৪৮ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন পুরুষ, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয়জন পুরুষ ও একজন নারী এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন নারী রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে একই সময়ে জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে শনাক্ত হওয়া ৪২ জন সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে পাঁচজন পুরুষ রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে জেলা হাসপাতাল থেকে ৩৪ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাঁচজন, গোমস্তাপুর থেকে তিনজন, নাচোল থেকে একজন এবং ভোলাহাট থেকে একজন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন।
প্রতিবেদনের আরেকটি হিসাবে, বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১২২ জন। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৪১ জন পুরুষ ও ৪৫ জন নারীসহ ৮৬ জন, শিবগঞ্জে তিনজন পুরুষ ও একজন নারীসহ চারজন, গোমস্তাপুরে ১৬ জন পুরুষ ও চারজন নারীসহ ২০ জন, নাচোলে তিনজন পুরুষ ও একজন নারীসহ চারজন এবং ভোলাহাটে পাঁচজন পুরুষ ও তিনজন নারীসহ আটজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বুধবারের দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরে জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলা হাসপাতালে ৩ হাজার ৬৭ জন, শিবগঞ্জে ২০১ জন, গোমস্তাপুরে ১৮৯ জন, নাচোলে ১০২ জন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২১ জন ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬৮০ জন।
এ ছাড়া জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে আরও ২ হাজার ৩৮৫ জন সাধারণ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে জেলা হাসপাতাল থেকে ২১০ জন ডেঙ্গু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।