চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, চাপ বাড়ছে সরকারি হাসপাতালগুলোয়। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৩ জন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোয় ভর্তি রয়েছেন ১১৮ জন ডেঙ্গু রোগী।
এমন পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি দলীয় প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি। গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে এক সভায় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আনাচে-কানাচে থাকা ঝোপঝাড় ১০ দিনের মধ্যে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৩৯ জনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৫ জন নারী। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন নারী, গোমস্তাপুরে ৫ জন পুরুষ ও ১ জন নারী এবং ভোলাহাটে ২ জন পুরুষ ও ১ জন নারী রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে শনাক্ত হওয়া ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে জেলা হাসপাতাল থেকে ৪৬ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৪ জন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১ জনসহ মোট ৫৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে ৩ জন পুরুষ রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোয় ভর্তি ১১৮ জন রোগীর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৮২ জন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ ও ৪৫ জন নারী। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন, গোমস্তাপুরে ১৫ জন, নাচোলে ৪ জন এবং ভোলাহাটে ৯ জন পুরুষ রোগী ভর্তি রয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৮৩৪ জন। এ ছাড়া শিবগঞ্জে ১৭৫ জন, গোমস্তাপুরে ১৫১ জন, নাচোলে ৯১ জন এবং ভোলাহাটে ১০৯ জনসহ সরকারি হাসপাতালগুলোয় মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৬০ জনে। একই সময়ে জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে আরও ২ হাজার ১৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
এ বছর জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৪ জন। এ ছাড়া গুরুতর অসুস্থ ১৯০ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।