চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্যপণ্যের মান বজায় রাখতে ব্যবসায়ী ও খাদ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা শহরের উদয়ন মোড়ে আলাউদ্দিন চাইনিজ ও ফাস্ট ফুডের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
প্রশিক্ষণে হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও কর্মচারী, খাদ্যপণ্য বিক্রেতা, মুদি দোকানদার, মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীসহ খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধ করে মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন এবং বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিরাপদ পানির ব্যবহারও নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, দূষিত পানি পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের কারণ। অন্যদিকে খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কিডনি, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আপনারা যারা পণ্য উৎপাদন করেন, তারাও কিন্তু ভোক্তা। আপনি অন্যকে ঠকাচ্ছেন, অন্যদের উৎপাদিত পণ্য কিনে আপনিও ঠকছেন।” এ সময় তিনি নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। আইন অমান্য করে অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান।
প্রশিক্ষণে মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম, খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলে ধরেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিলুজ্জামান। তিনি উপস্থাপনায় দেশে ক্যানসার, কিডনি রোগ, হৃদ্রোগ, লিভার সিরোসিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির বিষয় উল্লেখ করে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া খাদ্যের নিরাপত্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কোবাদ আলী। তিনি খাদ্যপণ্যে ভেজাল এবং অস্বাস্থ্যকর উপায়ে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুধে চিংড়ি মাছ পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিছু দুধ সরবরাহকারী মহানন্দা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে সরাসরি দুধে মিশিয়ে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করেন। এ ছাড়া মরা মুরগি বিক্রির অভিযোগে জরিমানার ঘটনাও রয়েছে।
প্রশিক্ষণে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রির প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।