চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ১০১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৪ জন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রয়েছেন ১২৪ জন ডেঙ্গু রোগী।
এদিকে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী ১০ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় থাকা ঝোপঝাড় পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি দলীয় প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি।
বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা হাসপাতালে নতুন করে ৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ ও ২৫ জন নারী। এ ছাড়া গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন নারী, নাচোলে দুজন পুরুষ এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন পুরুষ রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া আরও ৪০ জনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সুস্থ হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে ৩৬ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিনজন, নাচোল থেকে চারজন এবং ভোলাহাট থেকে একজন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও দুজন শিশুসহ ছয়জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ১২৪ জন রোগীর মধ্যে ৯২ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে ৪৮ জন পুরুষ ও ৪৪ জন নারী। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আটজন, গোমস্তাপুরে ১৩ জন, নাচোলে চারজন এবং ভোলাহাটে সাতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩ হাজার ৩১০ জন। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ২ হাজার ৭৯৫ জন, শিবগঞ্জে ১৭৩ জন, গোমস্তাপুরে ১৪৫ জন, নাচোলে ৯১ জন এবং ভোলাহাটে ১০৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে আরও ২ হাজার ১১০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় জেলা হাসপাতাল থেকে ১৮৭ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরে জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পৌর এলাকার ঝোপঝাড় পরিষ্কারের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।