চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাষ্টমী। সোমবার দেবী দুর্গার পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, ব্রত, উপবাস ও সন্ধিপূজার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মহাষ্টমীর সকালে শুরু হয় পূজা-অর্চনা। চণ্ডীপাঠ, মন্ত্রোচ্চারণ ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনায় অংশ নেন ভক্তরা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো।
মহাষ্টমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার সন্ধিপূজা। পুরোহিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তিথি অনুযায়ী মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার পর শুরু হয় সন্ধিপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলার প্রতিটি মণ্ডপে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করছেন। পূজা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন সবাই।
বারঘরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাইশপুতুল মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ বারঘরিয়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাইশপুতুল সর্বজনীন দুর্গামন্দিরেও মহাষ্টমী উপলক্ষে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। ২২টি মূর্তি নিয়ে সাজানো এই মণ্ডপটি জেলার অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন দুর্গাপূজার আয়োজন হিসেবে পরিচিত।
মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী মৃণাল কান্তি পাল জানান, আনুমানিক ১৭০৫ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সেই হিসাবে পূজাটির ঐতিহ্য প্রায় ৩২১ বছরের।
তিনি জানান, একসময় গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালাকে কেন্দ্র করে এই পূজার আয়োজন করা হতো। জনশ্রুতি রয়েছে, একবার ভয়াবহ বন্যায় এলাকাটি প্লাবিত হলে দেবী দুর্গার কাঠামো ভেসে বারঘরিয়ার নদীর ঘাটে এসে পৌঁছায়। পরে পূর্বপুরুষেরা স্বপ্নাদেশ পান, এই স্থানেই পূজার আয়োজন করতে হবে। সেই থেকে বারঘরিয়ায় পূজাটি হয়ে আসছে।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে বাইশপুতুল মণ্ডপটি স্থানীয়দের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রতি বছর দুর্গোৎসব উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে প্রতিমা দর্শনে আসেন। এবারও মহাষ্টমী ঘিরে মণ্ডপটিতে ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি।