চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ১০৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে মাইশা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মারা যাওয়া শিশু মাইশা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পিটিআই এলাকার আব্দুল বাসিরের মেয়ে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাহবুব হাসান জানান, গত ১১ অক্টোবর মাইশাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। বুধবার শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
মাহবুব হাসান আরও বলেন, শিশুটির মৃত্যুর তথ্য জেলা হাসপাতালের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত না হলেও সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল এবং ডেঙ্গুতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত নতুন রোগীদের মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৫৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, গোমস্তাপুরে সাতজন, নাচোলে একজন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন পুরুষ রোগী ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৪০ জন সাধারণ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে জেলা হাসপাতাল থেকে ২৮ জন, শিবগঞ্জ থেকে চারজন এবং গোমস্তাপুর ও নাচোল থেকে একজন করে রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। অন্যদিকে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে তিনজন এবং নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ১৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ১০৭ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আটজন, গোমস্তাপুরে ১৫ জন, নাচোলে তিনজন এবং ভোলাহাটে ১১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৫৮৭ জন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।