চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীর একটি খাঁড়িতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া আনিকা খাতুন (১২) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে খাঁড়িতে মরদেহটি ভেসে উঠলে স্বজন ও স্থানীয়রা তা উদ্ধার করেন। এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বাড়ির অদূরে ওই খাঁড়িতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় আনিকা।
নিহত আনিকা খাতুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জোহরপুর বেলপাড়া গ্রামের আনিকুল ইসলামের মেয়ে। সে জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির অদূরে পদ্মা নদীর খাঁড়ির একটি ঘাটে কাপড় কাচতে ও গোসল করতে যায় আনিকা। কাপড় কাচা শেষে গোসল করতে পানিতে নামার পর সে ডুবে নিখোঁজ হয়। পরে স্বজনরা ঘাটে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় ঘাটে তার কাপড় ও বাঁশে ঝোলানো ওড়না পাওয়া গেলেও তার সন্ধান মেলেনি।
খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল এনে বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে ওই দিন তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাঈদ হাসান শুভ জানান, বুধবার উদ্ধার অভিযান চালিয়েও আনিকার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে খাঁড়িতে মরদেহটি ভেসে ওঠে। এ সময় স্বজন ও স্থানীয়রা তা উদ্ধার করেন।
সংশ্লিষ্ট নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন ও ইউপি সদস্য মো. রবু জানান, বুধবার দুপুরে আনিকা একাই ওই ঘাটে কাপড় কাচতে ও গোসল করতে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা প্রথমে নিজেরাই পানিতে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।