চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ নেই। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে। এরই মধ্যে ডেঙ্গুতে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের গঠিত আটটি টিম প্রতিদিন পৌরসভা ও বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। সচেতনতার জন্য বারবার প্রচার চালানো হলেও অনেকেই তা মানছেন না। ফলে কয়েকটি বাড়িতে জরিমানাও করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করছেন, পৌরসভা এসে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে যাবে—এমন ধারণা থেকেই অনেকে বাড়ির আশপাশে আবর্জনা ফেলে রাখছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন পাত্রে স্বচ্ছ পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য বারবার বলা হলেও অনেক নাগরিক তা মানছেন না।
এদিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বৃহস্পতিবারের দৈনিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৮২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৪৩ জনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে এবং ছয়জনকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ৩৩ জন রোগীকে জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলা হাসপাতালের ৫৫ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুজন, গোমস্তাপুরের পাঁচজন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুজন রয়েছেন।
অন্যদিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে একজন পুরুষ, তিনজন নারী ও দুই শিশুসহ ছয়জন রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় নতুন ভর্তি হওয়া ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী।
বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ৯১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ২৬ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারীসহ ৬২ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন পুরুষ, গোমস্তাপুরে ১৬ জন পুরুষ, নাচোলে তিনজন পুরুষ এবং ভোলাহাটে চারজন পুরুষ ও একজন নারীসহ পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোট ২ হাজার ২৩৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ে জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।