চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ বছর ১৬৪টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজাকে ঘিরে জেলার প্রতিটি মণ্ডপ আইপি ক্যামেরার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, আনসার ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) একরামুল হক, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক ডাবলু কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা।
এছাড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান ও নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান।
সভায় মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জানানো হয়, গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার পাঁচটি মণ্ডপ বেড়ে মোট ১৬৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬১টি, শিবগঞ্জে ৫১টি, গোমস্তাপুরে ৩২টি, নাচোলে ১৭টি এবং ভোলাহাটে ৩টি মণ্ডপ রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি মণ্ডপে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় থাকবে বিজিবি।
এ ছাড়া গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, পূজায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ও দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রতিটি মণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আজান ও নামাজের সময় মাইক ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে রাত ৭টার মধ্যে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের কথা জানানো হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।
সভায় বক্তারা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় জানানো হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে। জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
সভায় জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা ও থানা পর্যায়ের পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার, বিসর্জন ঘাটে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।