রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 27, 2026
September 27, 2026
গোমস্তাপুর
গোমস্তাপুর

পান্তা ভাতের দিন পেরিয়ে বিচারকের পথে গোমস্তাপুরের কাজল পাঁড়ে

Published: September 27, 2026 at 10:15 AM
পান্তা ভাতের দিন পেরিয়ে বিচারকের পথে গোমস্তাপুরের কাজল পাঁড়ে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাই গ্রামের কাজল পাঁড়ে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ (সহকারী জজ) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ২০০ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মধ্যে তিনি ১৪০তম হয়েছেন।

কাজল তুরি জনগোষ্ঠীর একটি ভূমিহীন কৃষক পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় পরিবারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। পড়াশোনার খরচ চালাতে তাঁর বাবা নরেশ পাঁড়েকে বিভিন্ন জেলায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হয়েছে। সংসারের প্রয়োজনে গরুও বিক্রি করতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কাজল টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন।

২০১৭ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে আইন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর দীর্ঘদিন ধরে জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। গত বুধবার ফল প্রকাশের পর তিনি নিজের সাফল্যের খবর জানতে পারেন।

কাজলের সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাধাই গ্রামে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রাজশাহী থেকে বাড়ি ফেরার সময় গ্রামের শিক্ষার্থীরা ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেয়। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তাঁকে অভিনন্দন জানান।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক বিভূতিভূষণ মাহাতোর দাবি, তুরি জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজল পাঁড়েই প্রথম জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

খাস পুকুরপাড়ের একটি সাধারণ ঘর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সেখান থেকে বিচার বিভাগের পথে কাজল পাঁড়ের এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি ত্যাগ, সংগ্রাম ও অদম্য স্বপ্নের এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি। তার এই সাফল্য এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।