আগের দিনের ভালো বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা দ্বিতীয় দিনেও ধরে রাখলেন হাসান মাহমুদ। প্রস্তুতি ভালো হয়েছে তাসকিন আহমেদেরও। তবে বাকি তিন পেসার ছিলেন বেশ খরুচে। বোলারদের মিশ্র পারফরম্যান্সের পর ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত দুটি উইকেট হারিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।
ডারউইনে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের প্রথম ইনিংস থামে ৩৫৫ রানে। এতে বাংলাদেশ থেকে ৯২ রানের লিড নেয় স্বাগতিকরা। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৯ রান।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে ১৭৭ বলে ১৩০ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন টিগ উয়াইলি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪ ম্যাচে এটি তার মাত্র দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তার ব্যাটিং গড়ও ২০.৭৯।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৪২ রানে চার উইকেট নেন এই পেসার। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট। সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরি একটি করে উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন বেশ খরুচে।
আগের দিন ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে হালকা চোট পাওয়ায় সতর্কতার কারণে বোলিং করেননি তাইজুল ইসলাম। তার বদলে দলে না থেকেও বোলিংয়ের সুযোগ পান মুশফিক হাসান। তবে চার ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন তিনি।
হাসানের জোড়া আঘাত
দিনের দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন হাসান। জশ ফিলিপিকে বোল্ড করে আগের দিনের ২২ রানের সঙ্গে আর মাত্র দুই রান যোগ করার সুযোগ দেন তিনি।
এরপর কার্টিস প্যাটারসন ও জ্যাক ক্লেটনের ৭৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষায় রাখে। ৪৮ রান করা ক্লেটনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ইবাদত হোসেন। এরপর প্যাটারসনকেও বোল্ড করেন হাসান। ৫৩ রান করেন এই ব্যাটসম্যান।
প্যাটারসন ফেরার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৩৯ রান। সেখান থেকে উয়াইলি ও কিপার-ব্যাটার জেইক ডোরানের ১৫৭ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।
৩৫ ওভারের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি বোলারদের হতাশ করেন দুজন। ৭৬ রান করা ডোরানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মিরাজ। এরপর জার্সিস ওয়াদিয়াকে শূন্য রানে বোল্ড করেন এই অফ স্পিনার।
লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে দলকে সাড়ে তিনশ ছাড়িয়ে নেন উয়াইলি। তার সামনে পাঁচ উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। উয়াইলিকে ফিরিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের ইনিংস শেষ করেন খালেদ আহমেদ।
ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ধাক্কা
৯২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটাও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তৃতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন সাদমান ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৩১ রান করা এই ওপেনার এবার পুল শট খেলতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন ৬ রানে।
প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মুমিনুল হকও। দিনের শেষ দিকে মাত্র ৬ রানে বোল্ড হন তিনি। প্রথম ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৫৮ বলে ১৬ রান।
মুমিনুলের বিদায়ের মধ্য দিয়েই দিনের খেলা শেষ হয়। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া তানজিদ হাসান শেষ বিকেলটা কাটিয়ে দেন অপরাজিত থেকে।
বোলিং নিয়ে সন্তুষ্ট হাসান
স্কোরকার্ডে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও প্রস্তুতি ম্যাচে বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হাসান মাহমুদ। দিন শেষে বিসিবির ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বোলাররা ভালো লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বোলিং করেছেন।
হাসান বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমার মনে হচ্ছে, খুবই ভালো শুরু করেছি। বোলাররা খুবই ভালো লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বোলিং করেছে। এখানকার কন্ডিশন খুবই ভালো, বাউন্স এবং সুইং হচ্ছে। বোলিংয়ের দিক থেকে বলতে গেলে, বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা সবাই ভালো বোলিং করার চেষ্টা করেছি।’
গত জুন-জুলাইয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে কেন্টের হয়ে খেলেছেন হাসান। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দুই ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট। ডারউইনের কন্ডিশনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনেরও বেশ মিল খুঁজে পাচ্ছেন এই পেসার।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশেষ করে লন্ডনে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশন ও অস্ট্রেলিয়ার (ডারউইন) কন্ডিশন—দুটিকেই একই ধরনের কন্ডিশন বলব। আমি দুটিতেই বোলিং করতে অনেক উপভোগ করি। চেষ্টা করি, লাইন ধরে রেখে, সুইং যাতে থাকে এবং নতুন বলে যদি দ্রুত উইকেট পাই, সেই মানসিকতা নিয়েই বোলিং করি। চেষ্টা করেছি এই ম্যাচেও সেটা বজায় রাখার।’
দ্বিতীয় দিন শেষে ৯২ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ ওভারে ২ উইকেটে ১৯ রান করেছে। প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ দিনে ঘুরে দাঁড়াতে এখন ব্যাটারদের বড় ইনিংসের দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৬৩
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ১ম ইনিংস: ৮৭.২ ওভারে ৩৫৫ (আগের দিন ৫১/২) (কনস্টাস ১, কেলাওয়ে ০, প্যাটারসন ৫৩, ফিলিপি ২৪, ক্লেটন ৪৮, উয়াইলি ১৩০, ডোরান ৭৬, ওয়াদিয়া ০, জ্যাকবস ১০, রকিচ্চলি ৫, ক্রোন ০*; তাসকিন ১৫-৪-৫৬-২, হাসান ১৯-৫-৪২-৪, খালেদ ১২.২-০-৫২-১, ইবাদত ১৩-১-৬৬-১, মিরাজ ২০-৩-৭৭-২, মুশফিক ৪-০-৩৮-০, মুমিনুল ৪-০-২০-০)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৫ ওভারে ১৯/২ (তানজিদ ৭*, সাদমান ৬, মুমিনুল ৬; থমসন ৩-০-১০-২, জ্যাকবস ২-১-৯-০)।