শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২২ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 07, 2026
August 07, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

লিবিয়ায় অপহৃত ১৩ বাংলাদেশি উদ্ধার, গ্রেপ্তার সিরীয় নাগরিক

Published: August 07, 2026 at 12:38 PM
লিবিয়ায় অপহৃত ১৩ বাংলাদেশি উদ্ধার, গ্রেপ্তার সিরীয় নাগরিক

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অপহরণের শিকার ১৩ বাংলাদেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির অবৈধ অভিবাসনবিরোধী সংস্থা। এ ঘটনায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের অপহরণ করে তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ‘দ্য লিবিয়া অবজারভার’। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

লিবিয়ার অবৈধ অভিবাসনবিরোধী সংস্থার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, পূর্ব ত্রিপোলির অভিবাসী আটক কেন্দ্রের তদন্ত ও গ্রেপ্তারকারী ইউনিট সম্প্রতি দেশটিতে নতুন করে আসা অভিবাসীদের অপহরণ করে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়কারী একটি চক্রের সন্ধান পায়।

এরপর তদন্তকারীরা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি শুরু করেন। একপর্যায়ে অপহৃতদের আটকে রাখার স্থান এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পাবলিক প্রসিকিউশনের অনুমতি পাওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ১৩ বাংলাদেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সিরিয়ার এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের মুখোমুখি করা হলে গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে ঠিক কবে ওই বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ।

লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের অপহরণের অভিযোগ

কাজের সন্ধানে লিবিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিরা প্রায়ই অপহরণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত মে মাসে লিবিয়ার বেনগাজি শহরে আটকে পড়া ১৭০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরত আসা অনেকেই লিবিয়ায় গিয়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

প্রত্যাবাসিত এসব বাংলাদেশির বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানব পাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা যায়।

লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ কারণে দেশটিতে থাকা অনিয়মিত অভিবাসীদের অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধের ঝুঁকিও রয়েছে।