শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২২ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 07, 2026
August 07, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

তুরস্ক-সৌদি আরব-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

Published: August 07, 2026 at 12:35 PM
তুরস্ক-সৌদি আরব-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। শুক্রবার মক্কায় তিন দেশের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়।

এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ জোরদার করা এবং তিন দেশের নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করাই চুক্তির মূল লক্ষ্য। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এ চুক্তি সই হলো। ইরানের হামলার কারণে উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরান ও দেশটির মিত্ররা সৌদি আরবসহ বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টির ঘটনাও ঘটছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে।

তবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা’ নামে পরিচিত এই চুক্তির আওতায় তিন দেশ ঠিক কী ধরনের সামরিক প্রতিশ্রুতি বা বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছে, যৌথ বিবৃতিতে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। এতে বলা হয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অঞ্চল ও এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

এক তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে করা হয়নি। এ চুক্তিতে ভবিষ্যতে অঞ্চলের অন্যান্য দেশও যুক্ত হতে পারবে। একই সঙ্গে এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তিকে বাতিল বা প্রতিস্থাপন করছে না বলেও জানান তিনি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তিন দেশই উদ্বিগ্ন। দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।