ছুটির দিন শুক্রবারের সকালে দেশের দুই মহাসড়কে পৃথক বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বগুড়ার সদর উপজেলায় বাসচাপায় সাত শ্রমিক এবং সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন।
দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত
বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়ায় বাসচাপায় সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ও আহতরা কাজের সন্ধানে ভোরে এরুলিয়া বাজারে বসা শ্রমিকের হাটে এসেছিলেন। রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুররা প্রতিদিন ভোরে এই হাটে কাজের সন্ধানে আসেন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই শ্রমিক সংগ্রহ করেন।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল ও নূর আলমের পরিচয় জানা গেছে। অন্যদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯
অন্যদিকে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেঙ্গল পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের বাসের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস এবং সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাস দয়ামীর এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
ওসি জানান, আহতদের বেশির ভাগই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দুই বাসের সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে হতাহতদের অবস্থা দেখে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার জন্য তারা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটিকে দায়ী করেছেন।