চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় আর্থিক সংকটের কারণে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিয়ের আয়োজন করেছিল পরিবার। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষার্থীর বাবা একজন রাজমিস্ত্রী। অভাবের কারণে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে পরিবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীটি তার স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানায়। পরে বিষয়টি গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সির নজরে আনা হয়।
খবর পেয়ে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার জন্য ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ওই শিক্ষার্থী জানায়, সে এখনই বিয়ে করতে চায় না; লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। ইউএনওর সহযোগিতায় সে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক, তা তারা চাননি। বিষয়টি জানানো হলে ইউএনও দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
শিক্ষার্থীর মা বলেন, অভাবের কারণে মেয়ের বিয়ের কথা ভাবতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় এখন মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন।
ইউএনও জাকির মুন্সি বলেন, দারিদ্র্যের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাওয়া উচিত নয়। বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ এবং শিক্ষার্থীদের পাশে প্রশাসন সবসময় থাকবে।