বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৫ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৪ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাওয়া শিক্ষার্থীর পাশে ইউএনও, ঠেকল বাল্যবিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে খাবার মেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন গোদাগাড়ীতে ২০ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে চায়না দুয়ারি জাল সহ ২জন গ্রেফতার গোমস্তাপুরে ২০ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বিশ্বকাপ বিক্রির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এশিয়ান ফুটবল তোপের মুখে ফিফা ২০ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে ফিরলো জন সিনার চুল! কী এই হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট? জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে পিকেএসএফের ‘GREEN’ প্রকল্প, উপকৃত হবে ২.৫৮ লাখ পরিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে ফের আলোচনায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পাকিস্তান
Printed on: July 30, 2026
July 30, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

২০ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে ফিরলো জন সিনার চুল! কী এই হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট?

Published: July 30, 2026 at 01:17 PM
২০ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে ফিরলো জন সিনার চুল! কী এই হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট?

একসময় টাক পড়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো হলিউড অভিনেতা ও ডব্লিউডব্লিউই তারকা জন সিনাকে। ক্যামেরার সামনে তার মাথার সামনের অংশ ও পেছনের টাক স্পষ্ট দেখা যেত, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কম আলোচনা হয়নি। তবে এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। সম্প্রতি একমাথা চুল নিয়ে দেখা গেছে জন সিনাকে। এর পেছনে রয়েছে প্রায় ২০ ঘণ্টার হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি। জন সিনা নিজেই জানিয়েছেন, চুল গজানোর ওষুধের ওপর নির্ভর না করে তিনি অস্ত্রোপচারের পথ বেছে নিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে দুই ধাপে করা এই অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে তার মাথায় নতুন চুল গজাতে শুরু করে।


কী এই হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট

জন সিনার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির নাম ফলিকুলার ইউনিট এক্সট্র্যাকশন (এফইউই)। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টাকের চিকিৎসায় এটি অন্যতম জনপ্রিয় ও আধুনিক প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে প্রথমে মাথার এমন একটি অংশ নির্বাচন করা হয়, যেখানে চুল ঘন থাকে। সাধারণত মাথার পেছনের অংশ বা কানের পাশের অঞ্চলকে ডোনার এরিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়া দিয়ে ওই অংশ থেকে বিশেষ মাইক্রো-পাঞ্চ যন্ত্রের সাহায্যে এক থেকে চারটি চুলসমৃদ্ধ ক্ষুদ্র হেয়ার গ্রাফ্ট সংগ্রহ করা হয়। এরপর টাকের অংশে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে একে একে সেই গ্রাফ্ট প্রতিস্থাপন করা হয়। যেহেতু প্রতিটি গ্রাফ্ট আলাদাভাবে বসাতে হয়, তাই পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ১০ থেকে ২০ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।


কীভাবে নতুন চুল গজায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের টাক পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া। এতে ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি) হরমোনের প্রভাবে ধীরে ধীরে চুল ঝরে যায়। হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টে প্রতিস্থাপিত ফলিকলগুলো নতুন স্থানে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি পেয়ে ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাধারণত অস্ত্রোপচারের তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নতুন চুল গজাতে শুরু করে এবং পূর্ণ ফল পেতে ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।


বাংলাদেশেও হয় এই অস্ত্রোপচার

বাংলাদেশেও বর্তমানে অনেক বিশেষায়িত ক্লিনিক ও হাসপাতালে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে এই চিকিৎসা করানো উচিত। অন্যথায় সংক্রমণ, ত্বকের ক্ষতি বা কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। ক্লিনিক, চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা এবং কতটি গ্রাফ্ট প্রতিস্থাপন করা হবে তার ওপর নির্ভর করে খরচ ভিন্ন হয়। সাধারণভাবে বাংলাদেশে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের খরচ প্রায় ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। প্রতিস্থাপনের পরিমাণ বাড়লে খরচও বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকের চিকিৎসায় হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যকর একটি পদ্ধতি হলেও এটি করানোর আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা হেয়ার রিস্টোরেশন সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।