বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 29, 2026
July 29, 2026
বিনোদন
বিনোদন

মর্মান্তিক এক অধ্যায় উন্মোচন শ্রেয়া কালরার

Published: July 29, 2026 at 12:52 PM
মর্মান্তিক এক অধ্যায় উন্মোচন শ্রেয়া কালরার

 এমটিভি রোডিজ খ্যাত ভারতের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শ্রেয়া কালরা। এক রিয়েলিটি শো ‘লক আপ সিজন ২’তে সত্য সামনে নিয়ে এলেন তিনি, যা শুনে স্তব্ধ গোটা দেশ। এই সপ্তাহে শো-এর বিশেষ ‘ওন ইওর সিক্রেট উইক’ -এর আবহে সহ-প্রতিযোগী আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী যখন শ্রেয়াকে লাইমলাইটে নিয়ে আসেন, তখন রুদ্ধশ্বাসে এক মর্মান্তিক অধ্যায় উন্মোচন করেন এই সুন্দরী ইনফ্লুয়েন্সার। চোখের জলে ভাসতে ভাসতে শ্রেয়া সাফ জানিয়ে দেন যে ফাইনালিস্ট হওয়ার জন্য নয়, বরং নিজের বুকে চাপা পাথর নামাতেই আজ তিনি মুখ খুলেছেন। কাঁপাকাঁপা গলায় তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম আমার এই সিক্রেটটা নিজের ভেতরেই লুকিয়ে রাখতে। কারণ আমি জানি আমি ফাইনালে যেতে পারি, শো-কে আমি আমার সবটা দিয়েছি। কিন্তু আমি আকাঙ্ক্ষাকে বারবার বারণ করেছিলাম এই গোপন সত্যিটা প্রকাশ না করতে, কারণ আমি জানি এটা আমার গোটা পরিবারকে তছনছ করে দেবে। এর পরেই শ্রেয়া যা বলেন, তা যে কারও পিলে চমকে দেবে। তার কথায়, ‘আমার বয়স তখন মাত্র ১৩ বছর। দাদুর বাড়িতে বড় হলে যেমন হয়... সবাই মিলে একসঙ্গে হল ঘরে  ঘুমাতাম, তেমনই এক রাতে আমার এক তুতো ভাই আমার ওপর চড়াও হয়। সে আমাকে টেনে ধরত, তখন অবুঝ কিশোরী হিসেবে আমি বুঝতেই পারতাম না আসলে কী ঘটছে! একমাত্র ঋষভ (জয়সওয়াল) ছাড়া এই সত্যিটা কেউ জানে না। নিজেকে শক্ত রাখার কঠিন লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি চাই না। নিজেকে আক্রান্ত সাজানোর লোক আমি নই। বাইরে বেরিয়ে মানুষ আমাকে করুণা করুক, সেটা আমার ধাতে নেই। আমার বুক কাঁপে শুধু একটাই কারণে যে ছেলেটা আমার সঙ্গে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছিল, তার মা মারা যাওয়ার পর আমার মা নিজের হাতে তাকে তিন বছর খাইয়ে-পুষে বড় করেছিলেন। মা আমার মতো এতটা শক্ত নয়, জানি এই ঘটনাটা শুনলে-দেখলে একদম ভে পারিবারিক দায়িত্ব ও ভয়ের কথা বলতে গিয়ে শ্রেয়া নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান, “আসছে নভেম্বরে আমার নিজের ভাইয়ের বিয়ে। এর আগে গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে আমার কিছু বিতর্কের কারণে ভাইয়ের একটা এনগেজমেন্ট ভেঙে গিয়েছিল। তাই আমি কোনোভাবেই চাইনি আমার অতীত এসে ভাইয়ের নতুন জীবনটাকে আবার ছারখার করে দিক। ও যখন একটা নতুন সুখের সংসার শুরু করতে চলেছে, তখন আমার মনে হয় আমিই বুঝি অভিশাপ হয়ে ওর জীবনে ফিরে আসি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শ্রেয়া আরও বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় এই ভেবে যে, আমি সবসময় লোকজনকে নিজের অধিকারের জন্য লড়তে বলি, অথচ আমি নিজে একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারিনি। আজও ওই তুতো ভাইয়ের বিয়েতে পরিবারের সঙ্গে আমাকে যেতে হয়েছে। মা যদি টিভির পর্দায় আজ এই সত্যিটা জানতে পারেন, তবে তিনি আর বেঁচে থাকবেন না। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের মেয়ে শ্রেয়া কালরা নিজের নাচ, ফ্যাশন ও সপ্রতিভ ব্যক্তিত্ব দিয়ে কোটি কোটি তরুণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু সাফল্যের এই চকচকে সিঁড়ির পেছনে যে এত গভীর এক কান্না লুকিয়ে ছিল, তা আজ ফের একবার উন্মোচিত হলো। পর্দার এই ঝিলমিল আলোর আড়ালে যে কতটা গভীর পারিবারিক ও মানসিক ক্ষত লুকিয়ে থাকতে পারে, শ্রেয়া কালরার এই স্বীকারোক্তি তারই এক মর্মান্তিক দলিল হয়ে রইল।