রবিবার ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১০ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
কৃষক বেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ধরল নাচোল থানা পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়ের হার ৬২ শতাংশ : ওরিয়েন্টেশনে তথ্য প্রকাশ শিবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে জব্দ ভারতীয় শাড়িসহ বিভিন্ন সামগ্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছেই পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি গোমস্তাপুরের সীমান্তে ৭ জনকে রাতের আঁধারে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ সারা দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪০ ছাড়াল, নতুন ভর্তি ৪৩৯ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১৪০০ কোটির ট্রান্সফার ফিতে দিওমান্দের খোঁজে রিয়াল আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান থাকছেন ভলকার তুর্ক
Printed on: July 26, 2026
April 21, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ‘বড়’ প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কার

Published: April 21, 2026 at 04:57 PM
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ‘বড়’ প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কার

ইতালির জ্বালানি জায়ান্ট এনি ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ‘বড়’ প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সরকার বলছে, এর ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটিতে ইউরোপীয় কোম্পানিটি উৎপাদন তিনগুণ বাড়িয়ে দেবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রে বর্তমানে ব্যবহারের তুলনায় বেশি গ্যাস উৎপাদন হয়। রান্না, তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বহুল ব্যবহৃত এই জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। জাকার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে এনি জানায়, পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের একটি স্থানে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ৩০ কোটি ব্যারেল কনডেনসেটের মজুত রয়েছে। কনডেনসেট হলো তরল হাইড্রোকার্বন। নতুন এই আবিষ্কার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ নতুন সরবরাহের পথ খুলে দেবে’ বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। সরকার জানায়, এই আবিষ্কার এনি’র উৎপাদন ২০২৮ সালের মধ্যে দৈনিক ২ হাজার মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুটে উন্নীত করতে পারে। দুই বছর পর তা বেড়ে ৩ হাজার এমএমএসসিএফডি-তে পৌঁছাতে পারে।

বর্তমানে উৎপাদন ৬০০ থেকে ৭০০ এমএমএসসিএফডি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া বলেন, ‘এটি একটি বিশাল আবিষ্কার। গ্যাসের পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে আমরা প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করব। ২০২৯-২০৩০ সালে তা বেড়ে দেড় লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।’ সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, কনডেনসেট উৎপাদন বাড়লে তেল আমদানি কমতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির চাপে ইন্দোনেশিয়াও পড়েছে। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্ত মস্কোর ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তেল সরবরাহ নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছে বলে জাকার্তা জানিয়েছে। এর বিস্তারিত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভাহদ নাবিল আহমাদ মুলাচেলা বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা এখনো নেই। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হবে।’ এরপর প্রাবোও ফ্রান্সে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানে ‘জ্বালানি রূপান্তর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন’ বিষয়ে সহযোগিতার বিষয়ে একমত হন তারা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি ইন্দোনেশিয়া তেল উৎপাদক হলেও নিট আমদানিকারক। দেশটিতে জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়া হয়। গত মাসে সরকার জ্বালানি সংরক্ষণে রেশনিং চালু করে এবং প্রতি শুক্রবার সরকারি কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেয়। এ বছর জ্বালানির দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। যদিও ভর্তুকির বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭০ ডলার ধরে। যুদ্ধের কারণে বর্তমানে দাম প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি। গত সপ্তাহে সরকার কিছু অ-ভর্তুকিপ্রাপ্ত জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। মন্ত্রী বাহলিল মার্চে জানান, ইন্দোনেশিয়ার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। সরকার বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার মোট জ্বালানি সরবরাহে প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশ ছিল ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর অংশ ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। গত সোমবার বাহলিল বলেন, এনি’র সর্বশেষ আবিষ্কার প্রমাণ করে যে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জনে ইন্দোনেশিয়ার তেল-গ্যাস সম্ভাবনা এখনও উল্লেখযোগ্য।