রবিবার ২৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: May 24, 2026
May 24, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর

গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Published: May 24, 2026 at 02:48 PM
গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে| রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে “এলাকাবাসী ও সর্বস্তরের মানুষ”-এর ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়| প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তব্য দেন— জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু বকর, সমতা নারী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক ও নিহতের আত্মীয় আকসানা খানম, এলাকাবাসী আব্দুল করিম, আবু সাঈদ ও নিহতের ছেলে মোবারক হোসেনসহ অন্যরা| বক্তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনায় পুলিশকে ধন্যবাদ দেন| পাশপাশি মরিয়ম বেগমের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান| মানববন্ধনে এলাকার নারী-পুরুষরা অংশগ্রহণ করেন| উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ায় (অধিরের মোড়) সুমির বাড়ি থেকে গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ| নিহত মরিয়ম বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী| এ ঘটনায় সুমিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ| গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ার সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮), তার স্বামী মো. রুবেল হোসেন (৩৫), তার শ্বশুর আনোয়ার হোসেন (৫৫) ও রাজারামপুর মাস্টারপাড়ার ছবি সাহার ছেলে স্বর্ণকার শ্রী দীপক সাহা (৩৫)| এর মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোরিক্তমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মরিয়ম বেগম মামলায় গ্রেপ্তার গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার সুমি| কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করে তিনি মরিয়মকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন| চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলামের আদালতে গত বুধবার সন্ধ্যায় ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়| গত বৃহস্পতিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন| ওয়াসিম ফিরোজ জানিয়েছিলেন, সুমির মেয়েকে ৫ বছর যাবৎ প্রাইভেট পড়াতেন মরিয়ম বেগম| তিনি গত ১৮ মে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে ছেলের ল্যাপটপ কেনার জন্য সুমির কাছে কিছু টাকা ধার চান| কিন্তু টাকা না থাকায় দিতে পারেননি সুমি| পরে মরিয়ম বেগম তার কানের দুটি স্বর্ণের দুল বিক্রির জন্য সুমিকে দেন| ওই দুল দুটি সুমি ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন স্র্ণবকার দীপক সাহার কাছে| ওই টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেন সুমি| মরিয়ম পরে সুমির কাছে টাকা চায়লে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়| একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়মকে আঘাত করেন সুমি| এসময় মরিয়ম বেগম চিৎকার করলে সুমি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে| হত্যার পর একটি রেকসিনে জড়িয়ে মরিয়মের মরদেহ প্রথমে শয়নকক্ষের খাটের নিচে রাখেন সুমি| পরে মরদেহটিকে বস্তার মধ্যে ভরে ঘরের বাইরের একটি খড়ির ঘরের পাশে রাখেন| রাতে সুমি তার স্বামী ও শ্বশুরকে ঘটনাটি জানান| অন্যদিকে স্বর্ণকার দীপক সাহাও সুমির কাছ থেকে দুল কেনার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন| অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানিয়েছিলেন, হত্যায় ব্যবহৃত কাঠের বাটাম, মরিয়মের এক জোড়া কানের দুল ও দুল বিক্রির ৭ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করে পুলিশ| মরদেহ উদ্ধারের পর তার ছেলে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে ওই দিনই সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন| এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন রবিবার দুপুরে জানান, মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় ৪ জন আসামির ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে|