আমেরিকান পপতারকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্থা ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড’-এর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একদল বিনিয়োগকারী।
গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের আদালতে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওয়ান্ডারমাইন্ডের সাফল্য এবং কোম্পানিতে সেলেনার ব্যক্তিগত সক্রিয় অংশগ্রহণের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটিতে সেলেনা গোমেজ সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ‘চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার’ এবং মার্কেটিং প্রধানের পদে আসীন থাকলেও বাস্তবে কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল অর্থ প্রদানকারী শেয়ারহোল্ডারদের।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পাঁচজন বিনিয়োগকারী যৌথভাবে অভিযোগ এনেছেন যে, ২০২২ সালে তারা সেলেনার তারকা খ্যাতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিপুল অনুসারীদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার প্রসার ঘটবে—এমন প্রত্যাশায় সংস্থটিতে ১২ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৪ কোটিরও বেশি টাকা) বিনিয়োগ করেছিলেন। অথচ এর বিপরীতে বিগত তিন বছর ধরে পুরো প্রতিষ্ঠানটি ভেতরে ভেতরে পুরোপুরি ধসে পড়ার উপক্রম হলেও এর কোনো প্রতিষ্ঠাতা, নির্বাহী কর্মকর্তা বা পরিচালক একটি শব্দও বিনিয়োগকারীদের জানাননি। তারা মূলত বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে নিজেদের কোম্পানির পতনকে দীর্ঘায়িত করে গেছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়।
এই মামলায় সেলেনা গোমেজের পাশাপাশি তার মা ও কোম্পানির সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (কো-সিইও) ম্যান্ডি টিফি এবং তাদের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়, ২০২২ সালে বিনিয়োগ টানার সময় কোম্পানিটির বাজারমূল্য ৯৫ মিলিয়ন ডলার বলে দাবি করা হয়েছিল। সে সময় বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল যে জেনিপি অর্গান বা জেপি মরগানের মতো বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব, বিশাল বিজ্ঞাপনী চুক্তি, সেলিব্রিটি কভার স্টোরি এবং একটি যুগান্তকারী অ্যাপ নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু মামলার নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এসব অংশীদারত্ব বা বিজ্ঞাপনী চুক্তির কোনো অস্তিত্বই ছিল না এবং শেষ পর্যন্ত ওই অ্যাপটিও কখনো তৈরি করা হয়নি।
মূলত গত বছর ‘দ্য কাট’-এ প্রকাশিত একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদনের পর প্রথম এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা জানতে পারেন বিনিয়োগকারীরা। সেখানে উল্লেখ করা হয়, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনে প্ল্যাটফর্মটি চরম সংকটে পড়েছে। মামলাটিতে ওই প্রতিবেদনকে প্রধান ভিত্তি ধরে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মায়ের সঙ্গে সেলেনার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে চুক্তিবদ্ধ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, কোম্পানিটির মোট শেয়ারের প্রায় ৯০ শতাংশই সেলেনা, তার মা ম্যান্ডি এবং সাবেক সঙ্গী পিয়ারসনের যৌথ মালিকানায় ছিল।