মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
Printed on: November 03, 2026
November 03, 2026
বিনোদন
বিনোদন

বিয়ের ছবি ফাঁস, ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ দিতে চান টেইলর সুইফট

Published: November 03, 2026 at 01:45 PM
বিয়ের ছবি ফাঁস, ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ দিতে চান টেইলর সুইফট

নিজেদের বিয়ের আয়োজন ঘিরে গোপনীয়তার কোনো কমতি রাখেননি পপ তারকা টেইলর সুইফট ও মার্কিন ফুটবল তারকা ট্র্যাভিস কেলসি। অতিথিদের পরিচয় যাচাই, গোপনীয়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর, মুঠোফোন জমা রাখা-সব ধরনের ব্যবস্থাই ছিল। এমনকি বিয়ের সাজসজ্জার স্মারকও যাতে কারও হাতে না যায়, সে জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। এত সতর্কতার পরও বিয়ের অপ্রকাশিত ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় ভীষণ ক্ষুব্ধ টেইলর সুইফট।  কে বা কারা এই ছবি ফাঁস করেছেন, তা জানতে ব্যক্তিগত তদন্তকারী (প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর) নিয়োগের কথাও ভাবছেন তিনি।


গত ৩ জুলাই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করেন টেইলর ও ট্র্যাভিস। অনুষ্ঠানটি একান্ত ব্যক্তিগত রাখতে শুরু থেকেই কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন তারা। কিন্তু গত ২৬ অক্টোবর ডেইলি মেইলে বিয়ের আগে প্রকাশ্যে না আসা কিছু ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়।


স্টার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ছবি ফাঁসের ঘটনায় মানসিকভাবে অস্বস্তিতে রয়েছেন টেইলর। তার সন্দেহ, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের কোনো কর্মী কিংবা অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা দলের কেউ ছবিগুলো বাইরে প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত তদন্তকারী নিয়োগ করে তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে চান এই গায়িকা।


প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক সূত্রের দাবি, টেইলর চেয়েছিলেন বিয়ের বিশেষ দিনটি কেবল তাদের দুজনের এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। কিন্তু ছবি প্রকাশের পর সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপনীয়তা আর অক্ষুণ্ন থাকেনি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গেও কথাবার্তায় অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।


এদিকে স্ত্রীকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন ট্র্যাভিস কেলসি। সূত্রের দাবি, তিনি টেইলরকে বোঝাচ্ছেন, ছবি ফাঁস হলেও তাদের একসঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত ও স্মৃতিগুলো বদলে যাবে না। তবে বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না গায়িকা।


বিয়ের আয়োজনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল বেশ কঠোর। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার আগে অতিথিদের পরিচয় যাচাই করতে হয়েছে এবং গোপনীয়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। ডিজিটাল আমন্ত্রণপত্রে আলাদা জলছাপও ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে কোনো আমন্ত্রণপত্রের ছবি ফাঁস হলে সংশ্লিষ্ট অতিথিকে শনাক্ত করা যায়।


এছাড়া অতিথিদের ধাপে ধাপে অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানানো হয়েছিল। বিয়ের প্রকৃত স্থানও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় অতিথিদের মুঠোফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল, যাতে কেউ ছবি বা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে না পারেন।


ট্র্যাভিস পরে তার ‘নিউ হাইটস’ নামের পডকাস্টে মুঠোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, মুঠোফোন না থাকলে অতিথিরা ছবি তোলা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু প্রকাশের চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। এতে সবাই অনুষ্ঠানটির প্রতিটি মুহূর্তে মনোযোগ দিতে পারেন।


এদিকে ফাঁস হওয়া ছবিগুলোতে বিয়ের আয়োজনের জন্য ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ব্যাপক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। 


ডেইলি মেইলের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পরিচিত ক্রীড়াঙ্গনটিকে সাজানো হয়েছিল রোমান্টিক বাগানের আদলে। পীচ ও সাদা রঙের সাজসজ্জা, সবুজ গাছপালা, বড় বড় বৃক্ষ এবং নানা ধরনের ফুল দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে নকশার নমুনাও ছিল; সেগুলোর সবই যে অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সাজসজ্জার ছবি, তা নিশ্চিত নয়।


শুধু ছবি ফাঁস নয়, বিয়ের সাজসজ্জা নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে এসেছে। ডেইলি মেইলে উদ্ধৃত একটি সূত্রের দাবি, বিয়ের সাজসজ্জার কোনো সামগ্রী যাতে চুরি হয়ে নিলামে বিক্রি করা না যায়, সে জন্য অনুষ্ঠান শেষে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন টেইলর ও ট্র্যাভিস। ফলে বিয়ের কোনো স্মারক কারও কাছে না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।


তবে সাজসজ্জার সামগ্রী পুড়িয়ে ফেলার এই দাবি নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এমন সিদ্ধান্তকে অপচয় হিসেবে দেখছেন। যদিও এ বিষয়ে দম্পতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।