বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের বহুল প্রতিক্ষীত ‘কিং’ সিনেমা আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তবে ব্যাপক দর্শক জনপ্রিয়তার তুঙ্গে আসন্ন অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমাটি মুক্তির আগেই ৬৬৫ কোটি টাকার (৬.৬৫ বিলিয়ন রুপি) প্রি-রিলিজ চুক্তি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে। ফলে প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছানোর আগেই এটি সাম্প্রতিক হিন্দি সিনেমার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত এই সিনেমাটি দেশি ও বিদেশি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন, ডিজিটাল স্ট্রিমিং, স্যাটেলাইট এবং মিউজিক স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের চুক্তি অর্জন করেছে। তবে অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ বাদেও সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকায় (৫ বিলিয়ন রুপি) পৌঁছেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এতে বক্স অফিসে সিনেমাটিকে ঘিরে প্রত্যাশার চাপও অনেক বেশি।
‘স্যাকনিল্ক’ এবং ‘পিঙ্কভিলা’-র মতো ইন্ডাস্ট্রি সূত্রগুলোর ধারণা অনুযায়ী, এই প্রি-রিলিজ আয়ের মধ্যে ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের স্বত্ব থেকে ২৫০ কোটি রুপি, বিদেশি বাজারে প্রদর্শনের স্বত্ব থেকে ১৭৫ কোটি রুপি, নেটফ্লিক্সের স্ট্রিমিং চুক্তি থেকে ১৫০ কোটি রুপি, মিউজিক স্বত্ব থেকে ৬৫ কোটি রুপি এবং স্যাটেলাইট স্বত্ব থেকে ২৫ কোটি রুপি আয় করছে।
ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের স্বত্ব ‘পেন মারুধর’ ২৫০ কোটি রুপিতে কিনে নিয়েছে বলে জানা গেছে। দুবাই-ভিত্তিক ‘ফার্স ফিল্মস’ ১৭৫ কোটি রুপির ‘মিনিমাম গ্যারান্টি’ (ন্যূনতম আয়ের নিশ্চয়তা) চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বাজারে প্রদর্শনের স্বত্ব পেয়েছে। বিদেশি বাজারের এই চুক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো ভারতীয় সিনেমার জন্য এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ‘মিনিমাম গ্যারান্টি’র রেকর্ড।
নেটফ্লিক্স ১৫০ কোটি রুপিতে সিনেমাটির ডিজিটাল স্ট্রিমিং স্বত্ব কিনে নিয়েছে। তবে এই চুক্তিতে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমার পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত মূল্য পরিবর্তনের একটি শর্ত রয়েছে। মিউজিক স্বত্ব থেকে ৬৫ কোটি রুপি এবং স্যাটেলাইট স্বত্ব থেকে ২৫ কোটি রুপি আয় হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে সিনেমাটির প্রি-রিলিজ আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৫ কোটি রুপি।
এই বিশাল প্রি-রিলিজ আয়ের পাশাপাশি সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শুরুতে প্রায় ২০০ কোটি রুপি বাজেটের পরিকল্পনা থাকলেও, বর্তমানে ‘কিং’-এর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৪০০ কোটি রুপি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, শাহরুখ খানের অভিনয়ের পারিশ্রমিক এর বাইরে রাখা হয়েছে।
যদি এই সুপারস্টারের সম্ভাব্য পারিশ্রমিকও যোগ করা হয়, তবে সিনেমাটির মোট নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রচারণা ও মুক্তি সংক্রান্ত খরচের পরিমাণ আরও প্রায় ৪০০ মিলিয়ন রুপি (৪০ কোটি রুপি) হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুক্তির আগেই বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও, সিনেমাটির বাণিজ্যিক সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সেইসব পরিবেশকদের জন্য, যারা বড় অঙ্কের অগ্রিম অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলচ্চিত্র শিল্পের ধারণা অনুযায়ী ‘কিং’ সিনেমাটি থেকে মুনাফা অর্জনের জন্য বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে প্রায় ৮ বিলিয়ন রুপি (৮০০ কোটি রুপি) আয় করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত ‘ব্রেক-ইভেন’ সংখ্যা নয়, বরং এটি একটি বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা ধরা হয়েছে। কেননা প্রকৃত আয় নির্ভর করে বিভিন্ন পরিবেশনা চুক্তি, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং অন্যান্য খরচের ওপর।
মুক্তির আগে ৬.৬৫ বিলিয়ন রুপি (৬৬৫ কোটি রুপি) আয়ের যে খবর পাওয়া গেছে, তাকে যেন নিট মুনাফা বলে ভুল না করা হয়। পরিবেশনা চুক্তি বা নন-থিয়েট্রিক্যাল স্বত্ব থেকে প্রাপ্ত অর্থ মানেই যে প্রযোজকদের জন্য সমপরিমাণ মুনাফা, তা কিন্তু নয়। ২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘পাঠান’-এর পর ‘কিং’-এর মাধ্যমে আবারও একসঙ্গে কাজ করছেন শাহরুখ খান ও সিদ্ধার্থ আনন্দ। এই সিনেমাটি শাহরুখ খানের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এর মধ্যে দিয়ে প্রথমবারের মতো তিনি তার মেয়ে সুহানা খানের সঙ্গে পর্দায় জুটি বাঁধছেন।
গত ২ নভেম্বর শাহরুখ খানের জন্মদিনে সিনেমাটির প্রথম গান প্রকাশের মধ্য দিয়ে এর প্রচারণামূলক কার্যক্রম গতি পায়। মুক্তির আগেই বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক চুক্তি এবং প্রেক্ষাগৃহে বড় সাফল্যের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ‘কিং’ সিনেমাটি চলতি বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত বলিউড চলচ্চিত্র হয়ে উঠছে। তবে আসল পরীক্ষাটি হবে তখনই, যখন দর্শকরা সিদ্ধান্ত নেবেন, সিনেমাটি তাকে ঘিরে থাকা বিশাল বাণিজ্যিক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে কি না।