সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: November 02, 2026
November 02, 2026
বিনোদন
বিনোদন

রামায়ণের সঙ্গীত নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন এ আর রহমান

Published: November 02, 2026 at 12:21 PM
রামায়ণের সঙ্গীত নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন এ আর রহমান

আসন্ন দীপাবলি উৎসবের মৌসুমে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে চলেছে পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহুপ্রতীক্ষিত মেগাবাজেট মহাকাব্য ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড’। মানবসভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম আদি মহাকাব্য ‘রামায়ণ’। রাজপুত্র রামের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এ মহাকাব্যে। তিনি বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। মর্ত্যে এসে তাকে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেসব নিয়েই এ আখ্যান। পরিচিত এ গল্প অসংখ্যবার অসংখ্যবার নানাভাবে বর্ণিত হয়েছে। নীতেশ তিওয়ারি ও ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রথম সারির কয়েকজন ব্যক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবারের ‘রামায়ণ’। এর সঙ্গে রয়েছেন হলিউডের খ্যাতিমান সংগীত পরিচালক হান্স জিমার, যিনি চলচ্চিত্রটিকে জীবন্ত করে তোলার ক্ষেত্রে ছিলেন যত্নশীল। সব মিলিয়ে একটি মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র হিসেবে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করে ‘রামায়ণ’।


তবে নীতেশ তিওয়ারির আসন্ন এই চলচ্চিত্রে অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের সঙ্গীত নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার তৈরি সুর সবাই পছন্দ করবে, এমনটা তিনি আশা করেন না। অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, যদি আপনি সবাইকে খুশি করতে চান, তবে আইসক্রিম বিক্রি করুন।


‘স্ক্রিন’-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে এই সুরকার ব্যাখ্যা করেন, সঙ্গীত তৈরির প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ চিন্তাভাবনা থাকে এবং কিছু সুর শ্রোতাদের পুরোপুরি ভালো লাগতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, আমি নিজেই নিজের প্রথম সমালোচক। আমি যা কিছু তৈরি করি, তার সবই যে আমার খুব প্রিয়, তা কিন্তু নয়। আমরা কোনো সিদ্ধান্ত একদিনে নিই না; কখনও কখনও মাসের পর মাস সেই সুর নিয়ে আমাদের থাকতে হয়। এর পেছনে একটি সুচিন্তিত প্রক্রিয়া কাজ করে।


কিছু সুরের সাথে আচার-এর তুলনা টেনে রহমান বোঝাতে চেয়েছেন, সময়ের সাথে সাথে সঙ্গীতের তাৎপর্য আরও গভীর হতে পারে। অস্কারজয়ী এই সুরকার বলেন, কখনও কখনও আপনাকে নৃতাত্ত্বিক দিকটিও বিবেচনায় নিতে হবে। আবার কখনও কখনও কোনো কিছুকে সময়ের ওপর ছেড়ে দিতে হয়। ঠিক যেমন আচার; কিছু সুর যত পুরনো হয়, ততই তা আরও ভালো হয়ে ওঠে।


তিনি আরও বলেন, অনেক সময় শ্রোতারা কোনো একটি সুরের পেছনের বৃহত্তর সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি না বুঝেই তার বিচ্ছিন্ন অংশগুলো নিয়ে বিচার করতে বসেন। তার পরামর্শ, শ্রোতাদের কিছুটা ধৈর্য ধরা উচিত এবং সঙ্গীতটিকে নিজেদের মধ্যে গেঁথে ওঠার সুযোগ দেওয়া উচিত।


এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এল, যখন কুমার বিশ্বাসের লেখা এবং অরিজিৎ সিং ও শ্রেয়া ঘোষালের গাওয়া ‘মঙ্গল রং’ গানটি নিয়ে বিতর্ক চলছে। ভগবান রাম ও দেবী সীতার বিবাহকে কেন্দ্র করে তৈরি এই গানটিতে কাওয়ালির প্রভাব এবং এর সঙ্গীতায়োজন নিয়ে কিছু শ্রোতা সমালোচনা করেছেন।


এছাড়া ‘রাবণ তাণ্ডব’-এর ইলেকট্রনিক সঙ্গীতায়োজন নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এই দৃশ্যের জন্য যে ধরনের শক্তির প্রয়োজন ছিল, তা এতে ফুটে উঠেছে কি না। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এই সঙ্গীতে ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রভাব কতটা বজায় রয়েছে। এই চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন এ আর রহমান এবং অস্কারজয়ী জার্মান সুরকার হ্যান্স জিমার। রহমানের মতে, জিমারের যুক্ত হওয়া এই চলচ্চিত্রটিকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে আরও ভালোভাবে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।


রহমান বলেন, ‘রামায়ণ’-এর সাথে তার নাম যুক্ত হওয়াটা নতুন দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করবে’। চলচ্চিত্রটির বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই প্রকল্পে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এবং গানসহ প্রচুর সঙ্গীত নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। এটি সম্ভবত ১০টি সিনেমার সমান কাজের ব্যাপার।


তিনি আরও জানান, এই প্রজেক্টটিতে পাঁচটি ভাষা এবং দুটি সংস্করণ রয়েছে। একটি ভারতীয় দর্শকদের জন্য এবং অন্যটি হলিউডের জন্য। নীতীশ তিওয়ারি পরিচালিত এবং নামিত মালহোত্রা প্রযোজিত ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লিজেন্ড’ চলচ্চিত্রে ভগবান রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর, সীতার চরিত্রে সাই পল্লবী, রাবণের চরিত্রে যশ, লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবে এবং ভগবান হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল অভিনয় করছেন।


এর প্রথম পর্বটি চলতি বছরের ৫ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্বটি ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।