যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইরান। এছাড়া দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআই-৬’কে একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে তেহরান। রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা এই তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পদক্ষেপের জবাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি লন্ডনের পক্ষ থেকে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৩ জুলাই ‘স্টেট থ্রেটস অ্যাক্ট ২০২৬’ এর আওতায় আইআরজিসি-কে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার পর, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তেহরান; ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। ইরানের দাবি, ব্রিটিশ মালিকাধীন বিভিন্ন সামরিক ও লজিস্টিক ঘাঁটি ও সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে লন্ডন মার্কিন-ইসরায়েলি জোটে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলার জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। যদিও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা এবং গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবুও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি