ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলোর জোট নির্বাসিত নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নিজেদের নেতা হিসেবে পুনরায় স্বীকৃতি দিয়েছে। রোববার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে মাচাদোর দেশে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন ‘মহাজাতীয় চুক্তি’র অংশ হিসেবে বিরোধী জোট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির বিরোধী দলগুলোর একটি অংশ ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা চলছে।
বর্তমানে পানামায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন মাচাদো। তিনি সরাসরি আলোচনায় অংশ না নিলেও জানিয়েছেন, চলমান প্রক্রিয়ায় তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না। যুক্তরাষ্ট্রও এ আলোচনাকে সমর্থন করছে।
কারাকাসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রকাশিত চুক্তিতে বিরোধী জোট ‘ইউনিটারি ডেমোক্রেটিক প্ল্যাটফর্ম’-এর সদস্যরা মাচাদোর নেতৃত্বের প্রতি স্বীকৃতি ও সমর্থন জানান।
অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত হয়ে মাচাদো বলেন, তাঁরা এমন একটি উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছেন, যা তাঁর বিবেচনায় অত্যন্ত শক্তিশালী, কার্যকর ও প্রয়োজনীয়। তাঁর ভাষ্য, ভেনেজুয়েলার প্রজাতন্ত্র পুনর্গঠনে এই মহাচুক্তি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাবে।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ১৪ দফা প্রস্তাব
কারাকাসের বৈঠকে বিরোধী জোটের নেতারা ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের একটি রূপরেখাও তুলে ধরেন তাঁরা।
জোটের দাবির মধ্যে রয়েছে সব রাজনৈতিক বন্দির নিঃশর্ত মুক্তি, রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অবসান এবং নির্বাসিত নাগরিকদের দেশে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং অবাধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনেরও দাবি জানিয়েছে বিরোধী জোট। তবে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মাচাদোর দল ভেন্তে আগামী বছরের কোনো এক সময়ে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বিরোধী প্রতিনিধিদলের প্রধান দিনোরাহ ফিগুয়েরা শুক্রবার জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে তাঁরা কাজ করছেন।
মাচাদো বলেন, তাঁরা একটি নতুন যুগের সূচনায় রয়েছেন এবং উদার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান। তাঁর প্রত্যাশা, ভেনেজুয়েলা শেষ পর্যন্ত স্বাধীন হবে।
মাদুরোর পতনের পর রদ্রিগেজের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার
গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করতে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যে দেশ পরিচালনা করছেন তিনি।
২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য গোপনে ভেনেজুয়েলা ছাড়ার পর থেকে নির্বাসনে রয়েছেন মাচাদো। তাঁর দলের দাবি, দেশে ফেরার জন্য তিনি অন্তত সাতবার চেষ্টা করলেও ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাধা দিয়েছে।
অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা, মাচাদোর দেশে ফেরার পথে বাধা সৃষ্টির পেছনে ওয়াশিংটনের ভূমিকা থাকতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার রদ্রিগেজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, মাদুরোকে আটক করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মাচাদো। তিনি বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও প্রকৃত সার্বভৌমত্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় তিনি সব সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞ থেকেছেন।
ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তর, মাচাদোর প্রত্যাবর্তন এবং অবাধ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে চলমান আলোচনা দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।