আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি এই আশঙ্কা করেছেন। এলমাসরি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে নানা পক্ষের চাপের মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে থাকা কট্টরপন্থী নীতিনির্ধারকেরা ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তার ভাষায়, “ট্রাম্প ইরানের কাছ থেকে যে ধরনের আত্মসমর্পণ আশা করেছিলেন, তা তিনি পাননি। একই সঙ্গে তিনি ভেবেছিলেন আলোচনা ভিন্নভাবে এগোবে।” তিনি আরও বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়েও ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, তবে বাস্তব পরিস্থিতি তার প্রত্যাশা অনুযায়ী অগ্রসর হয়নি। এলমাসরির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধ করাই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক- উভয় দিক থেকেই এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের চাপ ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।” তবে তা সত্ত্বেও ট্রাম্প সহজে পিছু হটবেন না বলেই মনে করেন এই বিশ্লেষক। তার মতে, “ট্রাম্প এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে তিনি মার্কিন জনগণের সামনে কোনও সুস্পষ্ট বিজয় ঘোষণা ছাড়া ফিরে যেতে চাইবেন না।” মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।