সোমবার ১৮ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: May 18, 2026
May 18, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ঝিলিমে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগ

Published: May 18, 2026 at 12:23 PM
ঝিলিমে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগ


ঝিলিমে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগ


সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জলাহার রায়পাড়ায় হতদরিদ্র পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসম্মত স্ল্যাব ল্যাট্রিন বিতরণ এবং সুপেয় পানির সুবিধার জন্য সাবমার্সেবল পানির পাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকালে ডড়ৎষফ ঠরংরড়হ ইধহমষধফবংয-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ এপি’র উদ্যোগে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় জলাহার রায়পাড়ার ৮২টি পরিবার স্বাস্থ্যসম্মত স্ল্যাব ল্যাট্রিনের সুবিধা পাচ্ছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পরিবারকে সুপেয় পানির সুবিধার আওতায় আনতে সাবমার্সেবল পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শ্যামল এইচ কস্তা, প্রোগ্রাম অফিসার লিন্ডা রিছিল, ইঞ্জিনিয়ার ফেসিলিটেটর মোস্তাফিজুর রহমান, ডিপিএইচই ইঞ্জিনিয়ার জন পলাশ হাসদা, ইউপি সদস্য আশরাফ আলী এবং হালিমা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উল্লেখ্য, এ কার্যক্রমের আওতায় ঝিলিম ইউনিয়নে ৮২টি এবং গোবরাতলা ইউনিয়নে ৬২টি পরিবার স্ল্যাব ল্যাট্রিনের সুবিধা পাবে। এছাড়াও ৪০টি পরিবারকে সুপেয় পানির সুবিধার আওতায় আনা হবে।

বক্তারা বলেন, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন মানুষের সুস্থ জীবনের অন্যতম পূর্বশর্ত। বর্তমানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাওয়ায় নিরাপদ পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় পানির অপচয় রোধ, নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষণ এবং সচেতন ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা বলেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা গেলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

সভায় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিরাপদ টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হাত ধোয়ার উপকরণও বিতরণ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, মশারি ব্যবহার এবং ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করার বিষয়ে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তারা বলেন, সময়মতো টিকা প্রদান করলে শিশুদের অনেক প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করে এবং বাল্যবিবাহ কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মহলকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই এসব সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মত দেন তারা।

অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের মাঝে স্ল্যাব ল্যাট্রিনের উপকরণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসম্মত হাতধোয়া উপকরণ প্রদান এবং সুপেয় পানির সুবিধার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম এলাকার হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।