মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ ছবিটি ২০২২ সালে মুক্তির পর দেশ ও বিদেশে দর্শকনন্দিত হওয়ার সাথে সাথে ব্যবসায়িকভাবেও সাফল্য এনেছিল। এই নির্মাতার নতুন ছবি ‘রইদ’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে ঈদুল আযহায়। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে মুক্তির পর হাওয়া-কে ছাড়িয়ে যাবে ‘রইদ’ এই ব্যাপারে আশাবাদী এর একাংশের প্রযোজক বঙ্গের চিফ কনটেন্ট অফিসার মুশফিকুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘হাওয়া’ দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে সেই মুগ্ধতার জায়গা থেকে ‘রইদ’-এ যুক্ত হওয়া। প্রথম ছবির সাফল্যের পর হয়তো সুমনের প্রযোজকের অভাব ছিল না। এক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে ব্যাটে-বলে মিলে যাওয়ায় ‘রইদ’-এ যুক্ত থাকতে পেরেছি। অর্গানিক গল্প মনপুরার পর গ্রামীণ পটভূমিতে এতো বড় আয়োজনের সিনেমা আমি দেখিনি। সেই সাথে চরিত্রায়ন, সিনেমাটোগ্রাফি, গান থেকে একটি ছবির যতো সেলিং পয়েন্ট থাকা উচিত সবকিছুই ‘রইদ’-এ আছে। আমার মনে হয়, এই ছবি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ইমপ্যাক্ট ফেলা উচিত। বাকিটা মুক্তির পর বোঝা যাবে। বঙ্গ মূলত ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। সিনেমার পাশাপাশি ওটিটি কনটেন্ট, নাটক, বিভিন্ন শো নির্মাণ করে থাকে। সেই সুবাদে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্পের সঙ্গে পরিচিত হতে হয় সংশ্লিষ্টদের। প্রযোজক মুশফিকুর রহমান মঞ্জু বলেন, ”রইদ’-এ যে গল্প বলা হচ্ছে এই ধরনের গল্প আমরা কম পেয়েছি। সিনেম্যাটিক ট্রিটমেন্ট এই গল্প এমন আবহ তৈরি করবে যা দর্শকদের কাছে উপভোগ্য ও পরিপূর্ণ সিনেমা মনে হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সময়, অর্থ দুটো ব্যয় করে মানুষের কাছে ঠিকঠাক পয়সা উসুল সিনেমা মনে হবে ‘রইদ’।
‘রইদ’ কি ‘হাওয়া’কে ছাড়িয়ে যেতে পারবে? প্রযোজকের হাসিমুখে উত্তর, প্রত্যাশা থাকে তো ওটাই। একবার সফল হলে পরেরবার সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ থাকে। হবে কি হবে না সেটা মুক্তির পর অর্থাৎ সময় বলে দেবে। তবে ‘হাওয়া’র চেয়ে ‘রইদ’-এ পরিশ্রম বেশী দিতে হয়েছে। এই পরিশ্রমের স্বার্থকতা আসবে দর্শকদের থেকে। আমরা আশাবাদী ‘হাওয়া’কে ক্রস করার সব উপাদান ‘রইদ’-এ রয়েছে। ইতোমধ্যে ‘রইদ’ নিয়ে পরিবেশকদের আগ্রহ সন্তুষ্ট করেছে উল্লেখ করে মুশফিকুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘রইদ’ নিয়ে পরিবেশকদের যে আগ্রহ এই আগ্রহ আমি পূর্বে দেখিনি। দেশের পাশাপাশি নর্থ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ আমরা এবার সাউথ আফ্রিকাতে দিতে চাই। প্রযোজক হিসেবে চেষ্টা করছি যত বেশী মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়! কারণ আমাদের দেশের তুলনামূলক কম সিনেপ্লেক্স বিদ্যমান। অনেক বিভাগেই একেবারে নেই।
‘রইদ’ মূলত সাধু এবং তার পাগল স্ত্রীর সম্পর্কের এক সরল অথচ গভীর আখ্যান, যা প্রেম ও নীরবতার মাধ্যমে মানব বিবর্তনের সেই চিরন্তন আদিম প্রেমকে তুলে ধরে। সিদ্দিক আহমেদ, মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিদ ফারুক এবং শুকর্ণ শাহেদ ধিমানের চিত্রনাট্যে এ ছবির গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং নাজিফা তুষি। ‘রইদ’ প্রসঙ্গে সুমন বলেন, আমরা একটা অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দিনে দিনে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছি। এই অস্থির সময়ে মানুষের মধ্যে নিরবতার অভাব। তাই আমি ‘রইদ’-এ একটি প্রেমের গল্প দেখাচ্ছি। তবে এর মধ্যে মিথলজিক্যাল আসপেক্ট আছে, সেটা আমি ব্যাখ্যা করি নাই, প্রশ্ন করার চেষ্টা করেছি। ভেবেছিলাম রিলিজের ক্ষেত্রে নিরব টাইমে এলে ভালো হতো, কিন্তু সামনে ওয়ার্ল্ডকাপ আছে এজন্য দেরি হয়ে যাবে। নির্মাতা সুমনের প্রত্যাশা, ‘রইদ’-এর গল্পটি দর্শকদের অনুভূতির গভীরে দাগ কাটবে এবং আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হবে।দেশের শীর্ষস্থানীয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ এবং ফেসকার্ড প্রোডাকশন-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘রইদ’।