পুজো মানেই নতুন পোশাক, সাজগোজ, প্যান্ডেল হপিং আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানো। তবে উৎসবের আনন্দে এবার আবহাওয়াও হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে হঠাৎ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে পুজোর পোশাক বাছাইয়ে শুধু সৌন্দর্য নয়, আরাম ও ব্যবহারিক দিকও মাথায় রাখতে হবে। সারাদিন বাইরে ঘোরাঘুরি, দীর্ঘ সময় ভিড়ের মধ্যে থাকা কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার মতো পরিস্থিতিতে ভারী বা অস্বস্তিকর পোশাক বিপাকে ফেলতে পারে। তাই দিনের সময়, রাতের আয়োজন এবং দশমীর বিশেষ মুহূর্ত , প্রতিটি উপলক্ষের জন্য পোশাক নির্বাচন করা যেতে পারে আলাদাভাবে।
দিনের পুজোয় হালকা পোশাকেই স্বস্তি: ষষ্ঠী থেকে নবমীর দিনের বেলায় রোদ ও আর্দ্রতার কারণে গরম বেশি অনুভূত হতে পারে। এ সময়ে এমন কাপড় বেছে নেওয়া ভালো, যা শরীরে বাতাস চলাচলে বাধা দেয় না এবং ঘাম সহজে শোষণ করতে পারে। নারীদের জন্য হ্যান্ডলুম কটন, লিনেন, মলমল কিংবা হালকা সুতি শাড়ি হতে পারে দারুণ পছন্দ। যারা শাড়ির বদলে একটু ক্যাজুয়াল লুক পছন্দ করেন, তারা কটন কুর্তির সঙ্গে পালাজো বা আরামদায়ক প্যান্ট পরতে পারেন। ব্লক প্রিন্ট, হালকা এমব্রয়ডারি কিংবা ছোট মোটিফের পোশাক দিনের সাজে বেশ মানাবে। পুরুষদের জন্য হালকা সুতি বা খাদির কুর্তা-পাজামা আরামদায়ক হতে পারে। চাইলে কুর্তার সঙ্গে হালকা রঙের প্যান্টও পরা যায়। দিনের পোশাকে রঙের ক্ষেত্রেও একটু কৌশলী হওয়া ভালো। প্যাস্টেল শেড, লেমন ইয়েলো, আকাশি, হালকা নীল, পিচ, অফ-হোয়াইট কিংবা সাদা রং গরমের মধ্যে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে।
সন্ধ্যার সাজে ফ্যাশনের সঙ্গে আরাম: সন্ধ্যা নামার পর গরম কিছুটা কমলেও প্যান্ডেলের ভিড়ে অস্বস্তি হতে পারে। আবার হঠাৎ বৃষ্টি নেমে গেলে ভারী পোশাক সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সন্ধ্যার সাজে এমন কাপড় বেছে নেওয়া ভালো, যা দেখতে জমকালো হলেও খুব ভারী নয়। ক্রেপ সিল্ক, আর্ট সিল্ক, সেমি-তসর কিংবা কটন-মিক্স সিল্কের শাড়ি এ ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারে। সালোয়ার-কামিজ বা হালকা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকও বেছে নেওয়া যায়। রাতের আলোয় একটু গাঢ় ও উজ্জ্বল রং বেশি আকর্ষণীয় দেখায়। রয়্যাল ব্লু, গাঢ় সবুজ, ম্যাজেন্টা, পার্পল, মেরুন কিংবা ওয়াইন শেডের পোশাক সন্ধ্যার সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে।
শাড়িতে নতুনত্ব আনতে ফিউশন লুক: প্যান্ডেল হপিংয়ের সময় শাড়ির কুচি বা আঁচল সামলানো অনেকের কাছেই ঝামেলার মনে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রি-স্টিচড শাড়ি, শাড়ি গাউন কিংবা কেপ-স্টাইলের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাক বেছে নেওয়া যায়। এসব পোশাকে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সৌন্দর্য যেমন থাকে, তেমনি চলাফেরাতেও তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যায়। সঙ্গে হালকা গয়না ও ছোট ব্যাগ রাখলে সাজ হয়ে উঠতে পারে আরও পরিপাটি।
দশমীর সাজে লাল-সাদার ঐতিহ্য: দশমীর দিন বাঙালি নারীর সাজে লাল-সাদার আবেদন বরাবরই আলাদা। লাল পাড়ের সাদা বা অফ-হোয়াইট শাড়ি এ দিনের জন্য হতে পারে চিরন্তন পছন্দ। সিঁদুর খেলার পরিকল্পনা থাকলে খুব ভারী বা অতিরিক্ত দামি শাড়ির বদলে সুতি কিংবা হালকা সিল্কের শাড়ি পরা সুবিধাজনক। কারণ সিঁদুরের দাগ লাগার সম্ভাবনা থাকেই।পুরুষদের জন্য সাদা, অফ-হোয়াইট কিংবা লাল রঙের সুতির পাঞ্জাবি দশমীর ঐতিহ্যবাহী আবহের সঙ্গে মানিয়ে যাবে।
বৃষ্টির দিনে পোশাক নির্বাচনে সতর্কতা:পুজোর সময়ে হঠাৎ বৃষ্টি হলে রাস্তা কাদাময় বা পানিতে ভরে যেতে পারে। তাই অতিরিক্ত লম্বা পোশাক কিংবা ফ্লোর-লেন্থ ড্রেস এড়িয়ে চলাই ভালো। গোড়ালি পর্যন্ত ঝুলের পোশাক, অ্যাঙ্কল-লেন্থ কুর্তি বা প্যান্ট-স্টাইলের সালোয়ার তুলনামূলক সুবিধাজনক। শাড়ি পরলেও অতিরিক্ত লম্বা করে না পরাই ভালো। বিশেষ করে প্যান্ডেল হপিংয়ের সময় পোশাকের নিচের অংশে কাদা বা পানি লাগার ঝুঁকি থাকে।
জুতার ক্ষেত্রেও চাই আরাম: পুজোয় এক দিনে অনেকগুলো প্যান্ডেল ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে জুতার বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় হাঁটতে হতে পারে বলে হাই হিলের পরিবর্তে আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতো, স্লাইডার কিংবা ভালো গ্রিপের ব্যাক-স্ট্র্যাপ জুতো বেছে নেওয়া ভালো। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে এমন জুতো পরা উচিত, যা ভিজলেও সহজে নষ্ট হবে না এবং পিচ্ছিল রাস্তায় হাঁটার সময় কিছুটা স্থিরতা দেবে।
ব্যাগে থাকুক জরুরি কিছু জিনিস:পুজোর দিনে ছোট একটি ব্যাগে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস রাখা যেতে পারে। যেমন: ফোল্ডিং ছাতা, টিস্যু, ছোট তোয়ালে, অতিরিক্ত হেয়ার ক্লিপ, চিরুনি এবং প্রয়োজনীয় মেকআপ সামগ্রী। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ওয়াটারপ্রুফ বা ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট মেকআপ ব্যবহার করাও সুবিধাজনক। এতে হঠাৎ বৃষ্টিতে সাজ দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে। সব মিলিয়ে, এবারের পুজোয় ফ্যাশনের মূলমন্ত্র হতে পারে স্টাইলের সঙ্গে স্বস্তি। আবহাওয়া যেমনই হোক, পোশাক ও আনুষঙ্গিক জিনিস একটু বুঝে বেছে নিলে গরম, ভিড় কিংবা হঠাৎ বৃষ্টির মধ্যেও উৎসবের আনন্দ উপভোগ করা সহজ হবে।