চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রঅয় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা পরিষদ। আজ সকালে শহরের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ আয়োজিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি। তিনি বলেন, সরকার কৃষক কার্ড,ইমামদের সম্মানী প্রদান,স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি এসব নিয়েও উন্নয়ন শুরু করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, উত্তরাঞ্চলে কৃষি ভিত্তিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নিজেই কাজ করছেন। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণকে অনুধাবন করেন।
জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষাকে প্রথম মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিলেন। বর্তমান সরকার স্নাতক পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শিক্ষা মেয়েদের অধিকার। এর মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন হয়। বর্তমান সরকারও নারীদের এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করেছেন। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা এগিয়ে যাবেন। ছেলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলোর প্রতিও জোর দিয়েছে সরকার। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্কুলের পোষাক প্রদান করবে সরকার। এসএসসিকে শিক্ষাজীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সোপান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতেও ভাল ফলাফল করতে সচেষ্ট থাকার আহব্বান জানান।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত অন্তবর্তী সরকারের নীতি এ জন্য মূলত: দায়ী। সেই সাথে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট। বিদ্যূৎ সংকটও বিগত সরকারগুলোর কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। সার সংকট নিয়েও সরকার কাজ করছে। খাদ্য মজুদ সন্তোষজনক জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ২৬ লক্ষ টন খাদ্যশষ্য মজুদ রয়েছে। যা মজুদ সক্ষমতারও ১ লক্ষ টন বেশী।
বিরোধিদলের প্রতি সংবিধান সংশোধনের সংসদীয় কমিটিতে যোগ দেয়ার আহব্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তবে এজন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। বিরোধিদের এ কমিটিতে আসতে হবে। দেশে গনতন্ত্র থাকলেই উন্নয়ন হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
গ্রামও যেন শহরের মত হয়। যথা সময়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের সকল পদে যোগ্যদেরই নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.শামীম আরা চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজসহ জেলা ৫ উপজেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন আব্দুল কাদির আবদুল্লাহ ও নওশিন। অনুষ্ঠানে অতিথিরা জিপিএ-৫ প্রপ্তদের মেডেল পরিয়ে দেন ও উপহার প্রদান করেন। পরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নেন।
এর আগে সকালে সদর উপজেলা পরিষদের ভূমি অফিসের সামনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।