কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর ওপর দিয়ে শক্তিশালী বজ্রঝড় বয়ে গেছে। প্রবল বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টির তীব্র তাণ্ডবে পুরো শহরের স্বাভাবিক জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে বাড়িঘরের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টরন্টো হাইড্রোর সূত্রমতে, ঝড়ের পর থেকে অন্তত ৪৫ হাজার গ্রাহক সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। ঝোড়ো বাতাসের দাপটে শহরের একাধিক স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিবাহী তার ছিঁড়ে পড়েছে। এর ফলে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভারী বর্ষণের মুখে শহরের ব্যস্ততম ডন ভ্যালি পার্কওয়েসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অনেক যানবাহন প্রায় নিমজ্জিত অবস্থায় আটকে থাকতে দেখা যায়।
ঝড়ের প্রভাব পড়েছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও। টরন্টোর ইস্ট ইয়র্ক এলাকায় অবস্থিত মাইকেল গ্যারন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পানি ঢুকে পড়ায় সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলেও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বৈরি আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে নির্ধারিত ডজন ডজন ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো উদ্ধারকাজে মাঠে নেমেছে। রাস্তা থেকে উপড়ে পড়া গাছ অপসারণ, ছিটকে পড়া বিদ্যুতের তার সরিয়ে নেওয়া এবং জমা পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। পাশাপাশি টরন্টো ট্রানজিট কমিশন সাময়িকভাবে থমকে যাওয়া সাবওয়ে ও বাস সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঝড়ের পর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা গ্রেটার টরন্টো এলাকার জন্য জারি করা তীব্র বজ্রঝড়ের কমলা সতর্কতা তুলে নিয়েছে। তবে সাউথওয়েস্টার্ন অন্টারিও প্রদেশের কিছু অংশ জুড়ে দাবদাহ ও বজ্রঝড়ের সংকেত এখনো বহাল রাখা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর দুর্যোগকবলিত বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বের হতে এবং সাবধানে চলাফেরা করার নির্দেশ দিয়েছে।