শিশুসহ রাজশাহীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ জনের মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক শিশুসহ ২ জন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা ৯০ শতাংশ।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাশহরের ইসলামপুর বড়ইন্দারা মোড়ের ডাবলুর ছেলে রাব্বুলকে গত ৩০ আগস্ট ভোর ৬টায় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শিশুটি অন্তত ৭ থেকে ৮ দিন আগে থেকে জ্বরে ভুগছিল। অনেক দেরি করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। তার অবস্থা এতটাই খরাপ ছিল যে, আমরা তাকে ভোর ৬টায় ভর্তি করে সকাল ৯টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তার মৃত্যু হয়।
তত্ত্বাবধায়ক আরো বলেন, অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদয় সংঘ মোড় এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে শামসুল ইসলাম আরেফিন নামের এক যুবক গত ৬ আগস্ট এখানে (জেলা হাসপাতালে) ভর্তি হন। কয়েকদিন থাকার পর সুস্থতা বোধ করলে বাসায় চলে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে সরাসরি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেখানে গত ১৪ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তিনি বলেন— গতবার যেসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ছিল, এবারো সেসব এলাকাতেই বেশি ছড়াচ্ছে। ৯০ শতাংশ রোগীই পৌর এলাকার। এই পরিস্থিতিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে এডিস মশার স্পটগুলো চিহ্নিত করে নিধনের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। কেননা ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে এমনিতেই ৫ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। তার ওপর আজ মঙ্গলবার শুধুমাত্র ডেঙ্গু রোগীই ভর্তি আছেন ৭১ জন। একদিনেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ জন। এভাবে বাড়তে থাকলে হাসপাতালে জায়গা থাকবে না।
এদিকে জেলা হাসপাতালের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে আজ জানানো হয়েছে, গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আরো ৯০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৬ জন জটিল রোগীকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে ৪৪ জন সাধারণ রোগীকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে। এই ৭১ জনের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ, ২৮ জন মহিলা, ৭ জন ছেলেশিশু ও ৩ জন কন্যাশিশু রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন— ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্প্রে কার্যক্রম পরিচলনার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে, জুমার নামাজের খুতবার সময় বলা হচ্ছে। আমি নিজেও প্রায় চার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ড্রেনের দুই পাশে মশক নিধন ওষুধ দিয়েছি। এ নিয়ে আজ সিভিল সার্জন, পৌরসভার প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন— ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের যেসব কর্মকর্তারা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছেন, তাদের নিয়ে আগামীকাল সভা করব। সেখানে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে মোতবেক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।