নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে গত ১০ আগষ্ট, ফ্যামিলি কার্ড শুমারী-২০২৬ এর নাচোল উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী ও সপুারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রত্যাখান করে, প্রখাশ্যে জনসম্মুখে আপত্তিকর, মানহানিকর ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে, নাচোল সদর ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম এবং নাচোলের কসবা ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাবকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সেই সাথে কেন তাদের ওইসব অপরাধের কারণে পদ হতে চূড়ান্তভাবে ভাবে অপসারণ করা হবে না, তা পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে জবাবদানের জন্য কারণ দর্শাও নোটিশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞপনে উল্লেখ করা হয়, জনপ্রতিনিধিগনের এমন আচরণ প্রত্যাশিত শালীনতা, দায়িত্বশীল আচরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সাথে সামজ্ঞস্যপূর্ণ হয়নি।
গত ২৪ আগষ্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব জিয়াউর রহহমান স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (উপ-সচিব) উজ্জল কুমার দাস গতকাল তার দপ্তরে প্রজ্ঞাপন পাবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাও নোটিশের জবাব দিতে হবে।
মন্ত্রণালয় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের এমন আচরণ প্রত্যাশিত শালীনতা, দায়িত্বশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উক্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পর তাদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে আইন বহির্ভূত ও জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) এর (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, গত গত ১০ আগষ্ট ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে নাচোল উপজেলা পরিষদ ভবনে। ফল প্রত্যাখানের পাশপাশি বিক্ষোভকারীরা উপজেলা প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।