রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ইউএস ওপেনে নেমেছিলেন নোভাক জোকোভিচ। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কাছে হার মেনে টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো সার্বিয়ান কিংবদন্তিকে। ম্যাচের শেষদিকে কোর্টেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। আর্থার অ্যাশে স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার মারিয়ানো নাভোনের বিপক্ষে পাঁচ সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৬-৭, ৭-৫, ৬-৪, ২-৬, ১-৬ গেমে হেরে যান জোকোভিচ। ম্যাচের শুরু থেকেই জোকোভিচের শারীরিক অস্বস্তি চোখে পড়ে। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বারবার মাথায় আইসব্যাগ রাখতে দেখা যায় তাকে। পরে ছাদ বন্ধ করে দেওয়ার পর কোর্টের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসি চালানোর অনুরোধও করেন তিনি। তৃতীয় সেটে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ষষ্ঠ গেমে কয়েকবার বমি করেন জোকোভিচ। টুর্নামেন্টের ফিজিও তাকে ওষুধ দেন, আর তার দল কোর্টসাইডে তরল পানীয় সরবরাহ করে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যান তিনি। প্রথম সেট টাইব্রেকে হারার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসেন জোকোভিচ। একসময় জয় থেকে মাত্র এক সেট দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি।
চতুর্থ সেটে দাপট দেখান নাভোনে। নির্ধারণী পঞ্চম সেটেও জোকোভিচের শারীরিক শক্তি যেন ফুরিয়ে যায়। ৪-১ গেমে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায় তার। শেষ পর্যন্ত সহজেই সেটটি জিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় জয় তুলে নেন নাভোনে। ম্যাচের শেষদিকে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জোকোভিচ। কোর্টেই কাঁদতে শুরু করেন তিনি। দর্শকসারিতে থাকা তার স্ত্রী জেলেনাকেও তখন বিচলিত দেখা যায়। এই হারের মধ্য দিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যামে জোকোভিচের টানা ৭৮টি প্রথম রাউন্ড জয়ের দৌড় থামল। প্রায় দুই দশক পর কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডে হারলেন তিনি। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পল গোল্ডস্টেইনের কাছে প্রথম রাউন্ডে হেরেছিলেন সার্বিয়ান এই তারকা।