গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ক্রিকেটারদের আয়ও। জাতীয় দলের চুক্তি ও ম্যাচ ফি’র পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট, বিজ্ঞাপন, ধারাভাষ্য এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে এখন বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছেন নারী ক্রিকেটাররা। ফলে আর্থিক দিক থেকেও তৈরি হয়েছে নতুন এক প্রতিযোগিতা। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী ক্রিকেটারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অলরাউন্ডার এলিস পেরি। তার আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০ কোটি টাকা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তির পাশাপাশি নারী বিগ ব্যাশে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে খেলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনী চুক্তি থেকে বড় অঙ্কের আয় করেন তিনি। তালিকার দ্বিতীয় স্থানেও রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার আরেক কিংবদন্তি মেগ ল্যানিং। সাবেক এই অধিনায়ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট, ধারাভাষ্য ও ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। বিশ্বের ধনী নারী ক্রিকেটারদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মিতালি রাজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও বিজ্ঞাপন, ধারাভাষ্য, গণমাধ্যমে উপস্থিতি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় করে চলেছেন তিনি। বর্তমানে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি টাকা।
মিতালি রাজের পরই রয়েছেন স্মৃতি মন্ধানা। তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা এই তারকার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। জাতীয় দলের চুক্তি, নারী প্রিমিয়ার লিগের পারিশ্রমিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে তার আয়ের বড় অংশ আসে। তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৬ কোটি টাকা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট, জাতীয় দলের পারিশ্রমিক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে নিজের আর্থিক অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি। শীর্ষ পাঁচে অস্ট্রেলিয়ার দুই তারকার পাশাপাশি ভারতের তিন ক্রিকেটারের উপস্থিতি নারী ক্রিকেটের বাণিজ্যিক উত্থানের ছবিটাই তুলে ধরছে। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তার, নারী ক্রিকেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞাপনী বাজারে নারী ক্রিকেটারদের চাহিদা বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে এই তালিকায় আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একসময় নারী ক্রিকেটে অর্থের অঙ্ক ছিল পুরুষ ক্রিকেটের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। এখন সেই ব্যবধান ধীরে ধীরে কমছে। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদের তারকাখ্যাতিও পরিণত হচ্ছে বড় বাণিজ্যিক শক্তিতে।