বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 19, 2026
August 19, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক যেসব পানীয়

Published: August 19, 2026 at 12:05 PM
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক যেসব পানীয়

কোষ্ঠকাঠিন্য হজমের একটি সাধারণ সমস্যা। অনিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, খাবারে আঁশের ঘাটতি এবং শারীরিক পরিশ্রম কম হলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় খাবার ও পানীয়ের ধরনে কিছু পরিবর্তন আনলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি কিছু সহজলভ্য ফলের রস ও আঁশযুক্ত পানীয় হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার রাখা জরুরি।


উষ্ণ পানি

দিনের শুরুতে এক গ্লাস হালকা উষ্ণ পানি পান করার অভ্যাস শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে খুব গরম পানি পান করার প্রয়োজন নেই। দিনের অন্যান্য সময়েও পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।


পাকা পেঁপের শরবত

পাকা পেঁপেতে পানি ও আঁশ রয়েছে। এ কারণে হজমের জন্য ফলটি বেশ উপকারী। নিয়মিত পাকা পেঁপে খেলে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ে, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পাকা পেঁপে দিয়ে শরবত তৈরি করেও খাওয়া যায়। এতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো। সম্ভব হলে শরবত ছেঁকে না খেয়ে ফলের আঁশসহ পান করা ভালো।


কমলার রস

কমলায় পানি ও ভিটামিন সি রয়েছে। তবে জুসের তুলনায় পুরো কমলা খেলে বেশি আঁশ পাওয়া যায়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে ফল হিসেবে কমলা খাওয়াই বেশি উপকারী। রস পান করতে চাইলে তাজা কমলার রস তৈরি করে খেতে পারেন। এতে বাড়তি চিনি না দেওয়াই ভালো।


পেয়ারার শরবত

পেয়ারা আঁশসমৃদ্ধ একটি সহজলভ্য ফল। নিয়মিত পেয়ারা খেলে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ে, যা হজম ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পেয়ারার শরবত তৈরি করা গেলেও ছেঁকে ফেললে আঁশের পরিমাণ কমে যায়। তাই শরবত করলে ফলের পাল্পসহ পান করা ভালো। চাইলে পেয়ারা সরাসরি খাওয়াই সবচেয়ে সহজ উপায়।


লেবু পানি

লেবু পানি নিজে কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা নয়। তবে পানি শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। চিনি ছাড়া হালকা লেবু পানি প্রতিদিনের পানীয়ের তালিকায় রাখা যেতে পারে। সকালে কিংবা দিনের যেকোনো সময় এটি পান করা যায়। তবে লেবু খেলে যাদের অ্যাসিডিটি বা পেটে অস্বস্তি বাড়ে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।


ইসবগুলের ভুসি মেশানো পানি

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ইসবগুলের ভুসি বহুল ব্যবহৃত একটি আঁশের উৎস। পানির সঙ্গে মিশে এটি ফুলে ওঠে এবং অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে পেট পরিষ্কার হতে সুবিধা হতে পারে। ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে না খেয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করা ভালো। নিয়মিত ইসবগুল খাওয়ার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।


ভেজানো চিয়া সিড

চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে রাখলে জেলির মতো হয়ে যায়। এতে আঁশ ও তরল দুটিই পাওয়া যায়। এক টেবিল চামচ চিয়া সিড পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পান করা যেতে পারে। তবে হঠাৎ বেশি পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়া ঠিক নয়। এতে কারও কারও গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো।


আদা চা

হালকা গরম আদা চা হজমে স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে ভারী খাবারের পর আদা চা অনেকের কাছে আরামদায়ক পানীয় হিসেবে কাজ করে। আদার কিছু উপাদান হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তবে চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। একই সঙ্গে দিনে অতিরিক্ত চা পান করার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা উচিত।


কফি

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কফি পান করার পর মলত্যাগের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কফি অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়াকে উদ্দীপ্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য অতিরিক্ত কফি পান করা উচিত নয়। পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো।


পানীয়ের পাশাপাশি খাবারেও নজর দিন

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে শুধু একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ডাল, ছোলা, পেঁপে, পেয়ারা, কমলা, আপেলসহ আঁশযুক্ত খাবার রাখা দরকার। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা হালকা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাসও হজমের জন্য উপকারী। খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ালে ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো।


দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ

মাঝেমধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হলে খাবার ও জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে উপকার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে তীব্র পেটের অস্বস্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, বারবার বমি কিংবা হজমের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার পেছনে অন্য কোনো শারীরিক কারণও থাকতে পারে।