চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় বাল্যবিবাহ, শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে আলোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশন হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে স্ট্রেনদেনিং সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ (এসএসবিসি) প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, ইউনিসেফের সহযোগিতায়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওদুদ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুফতি আবু হানিফ, জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহা. সাইদুর রহমান, আব্দুস সামাদ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহা. হাবিবুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী মনিটরিং কর্মকর্তা মোহা. আখতার উজ্জামান, বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, মানপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম এবং জনপ্রতিনিধি ইয়াসমিন খাতুনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য ও সমাজকর্মী, যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওদুদ বলেন, ইসলাম শিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহা. সাইদুর রহমান বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আব্দুস সামাদ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহা. হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষাই শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রধান মাধ্যম। তাই কোনো শিশুই যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী মনিটরিং কর্মকর্তা মোহা. আখতার উজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলাই শিশু সুরক্ষার অন্যতম শর্ত।
বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
মানপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
জনপ্রতিনিধি ইয়াসমিন খাতুন বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা কমিটিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় শিশুদের সব ধরনের টিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, হাম-রুবেলাসহ অন্যান্য টিকা শিশুদের বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে শিশু অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।