বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৩ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 09, 2026
July 09, 2026
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

দেশেই ফুটল উটপাখির বাচ্চা মিললো গবেষণার বড় সাফল্য

Published: July 09, 2026 at 11:25 AM
দেশেই ফুটল উটপাখির বাচ্চা মিললো গবেষণার বড় সাফল্য

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে একটি বেসরকারি মিনি চিড়িয়াখানায় প্রথমবারের মতো উটপাখির ডিম থেকে সাতটি বাচ্চা ফুটেছে। এর মধ্যে একটি মারা গেলেও বর্তমানে ছয়টি বাচ্চা সুস্থ রয়েছে। দেশে উটপাখির প্রজনন ও বাণিজ্যিক খামার সম্প্রসারণে এ ঘটনাকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন গবেষক ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা। পার্বতীপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত ‘দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক’-এ জন্ম নেওয়া বাচ্চাগুলোর মধ্যে পাঁচটি দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের গবেষণাগারের ইনকিউবেটরে এবং দুটি পার্কের নিজস্ব ইনকিউবেটরে ফুটেছে। বর্তমানে ছয়টি বাচ্চার বয়স প্রায় দেড় মাস। বাচ্চাগুলো নিরাপদে বেড়ে ওঠার স্বার্থে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম পার্ক পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রত্যন্ত পল্লী গ্রামে দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কে সুন্দর ছায়া সুন্দর নিবিড় পরিবেশে উটপাখির ডিম থেকে ৭টি বাচ্চা জন্ম নেওয়া অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। এতে করে দেশে উটপাখির বংশবিস্তারে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিলো। এ মিনি চিড়িয়াখানা আগামীতে আরও ভালো কিছু করবে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উটপাখির বাচ্চাগুলো দেখতে পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। দর্শনার্থীদের কাছে নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে পার্কটি। দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের মালিক ইঞ্জিনিয়ার রইচ উদ্দীন মিঞা বাবুল জানান, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে ঢাকা থেকে দুটি উটপাখি আনা হয়। আনার এক সপ্তাহের মাথায় পাখি দুটি ২৪টি ডিম দেয়। পরে হাবিপ্রবির গবেষকদের সহযোগিতায় ডিমগুলো ইনকিউবেটরে সংরক্ষণ করা হয়। ৪৫ দিন পর গত ২৪ মে সাতটি বাচ্চা ফোটে। এর মধ্যে একটি মারা গেলেও ছয়টি সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। তিনি জানান, সম্প্রতি উটপাখি দুটি আরও আটটি ডিম দিয়েছে। সেগুলোও ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেসব ডিম থেকেও বাচ্চা ফোটার আশা করা হচ্ছে। দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক’ পরিদর্শন শেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রত্যন্ত পল্লী গ্রামে দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কে সুন্দর ছায়া সুন্দর নিবিড় পরিবেশে উটপাখির ডিম থেকে ৭টি বাচ্চা জন্ম নেওয়া অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। এতে করে দেশে উটপাখির বংশবিস্তারে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিলো। এ মিনি চিড়িয়াখানা আগামীতে আরও ভালো কিছু করবে। দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, দেশে এ প্রথম কোনো মিনি চিড়িয়াখানায় উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। আমাদের দেশে উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নিলে ১ সপ্তাহ বেশি টিকেনি। কিন্তু বর্তমানে বাচ্চাগুলোর বয়স দেড় মাস। আশা করা যাচ্ছে, এবার গবেষণা সফল হবে। দেশে উটপাখির প্রজনন নিয়ে প্রায় ছয় বছর ধরে গবেষণা চলছে। আগের কয়েক দফা চেষ্টা সফল না হলেও এবার পার্কে উৎপাদিত ডিম থেকে সুস্থ বাচ্চা ফোটানো সম্ভব হয়েছে। এটি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হাবিপ্রবিতে প্রায় ৬ বছর ধরে উটপাখির বংশবৃদ্ধি, বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির চাষ করে দেশে প্রোটিনের জোগান দেওয়ার বিষয়ে গবেষণা শুরু হয়।হাবিপ্রবির জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশেদুল ইসলাম বলেন, দেশে উটপাখির প্রজনন নিয়ে প্রায় ছয় বছর ধরে গবেষণা চলছে। আগের কয়েক দফা চেষ্টা সফল না হলেও এবার পার্কে উৎপাদিত ডিম থেকে সুস্থ বাচ্চা ফোটানো সম্ভব হয়েছে। এটি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি জানান, একটি উটপাখির বাচ্চা বিদেশ থেকে আমদানি করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অথচ দেশেই সফলভাবে বাচ্চা উৎপাদন করা গেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালন ও প্রোটিনের নতুন উৎস তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হবে। সাধারণত একটি উটপাখি মৌসুমে ৬০ থেকে ৮০টি ডিম দেয় এবং ৪২ থেকে ৪৫ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। উটপাখির বাচ্চাগুলোর সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করছেন কৃষিবিদ মোর্শেদা বেগম লুপু ওপাশে সহযোগিতায় ছিলেন স্বামী ইঞ্জিনিয়ার রইচ উদ্দিন মিঞা বাবুল। প্রসঙ্গত, দেশে উটপাখি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে ২০২০ সালে গবেষণা শুরু করে হাবিপ্রবির জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগে। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ১৯টি ডিম ইনকিউবেটরে বসানো হয়। তবে সেখান থেকে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। এরপর ২০২২ সালে বিভিন্ন ধাপে ৩৬টি ডিম বসানো হয়, কিন্তু সেবারও নিরাশ হতে হয় গবেষকদের। ২০২৩ সালের মেয়ে মাসে ১৩টি ডিম বসানো হয়, সেখানে ডিম না ফোটায় আরও ছয়টি ডিম ইনকিউবিটরে বসান গবেষকরা। সেখানকার একটি ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। পরে সে বাচ্চাটি কিছুদিনের মধ্যে মারা যায়।